বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন বলেছেন, ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রা পেরিয়ে আজ তিনি সেই দলের চেয়ারম্যান। এই পথচলা কোনো উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত পূর্বনির্ধারিত আরোহণ নয়; বরং নিজ যোগ্যতায় ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম ও গণমানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শনিবার মাহাদী আমিন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এই একথা বলেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান এমন এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, যেখানে রাজনীতি মানেই ছিল দেশ ও জনগণের জন্য আত্মনিবেদন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বলিদান। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। তাঁর মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বদানকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। এই গৌরবোজ্জ্বল প্রেক্ষাপটে তিনি চাইলে খুব সহজেই রাজনীতির শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন।
কিন্তু তারেক রহমান সেই সহজ পথ বেছে নেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন কঠিন ও সংগ্রামী পথ—তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের ক্ষমতায়নের রাজনীতি। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি বারবার ছুটে গেছেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল কথা হলো—দেশের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি ছড়িয়ে দিয়ে প্রান্তিক মানুষের সমস্যার সমাধান এবং তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন।
মাহাদী আমীন আরো বলেন, একজন মানুষ কীভাবে একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হতে পারেন—তারেক রহমান তার জীবন্ত উদাহরণ। ইতিহাসের বৃহত্তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং সে সময় জনগণের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা তারই প্রমাণ। অনিঃশেষ নির্যাতন, নির্বাসন ও ষড়যন্ত্রের মুখেও তিনি কখনো মাথা নত করেননি; গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে থেকেছেন অটল ও আপোষহীন।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তারও বহু আগে থেকেই তিনি খুব কাছ থেকে তারেক রহমানের ভিশন, কমিটমেন্ট ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মাহাদী আমীন আশা প্রকাশ করে বলেন, এটি এখন অনেকটাই সর্বজনীন বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে যে, তারেক রহমান ভবিষ্যতে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন—ইনশাআল্লাহ। তিনি তাঁর প্রিয় নেতার জন্য সর্বান্তকরণে শুভকামনা জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

