খুলনা-৫ (ফুলতলা–ডুমুরিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
গত ২৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। এরই মধ্যে ইসি থেকে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের জন্ম খুলনার ফুলতলা উপজেলায়। তার স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা সেখানেই।
মিয়া গোলাম পরওয়ার হলফনামায় বলেছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমকম (অ্যাকাউন্টিং)। বর্তমান পেশা ব্যবসা, সাবেক পেশা শিক্ষকতা। তার স্ত্রী কামরুন্নাহার সালমা গৃহিণী। তার স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি সোনাসহ যে অস্থাবর সম্পদ আছে, তার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।
বর্তমানে মিয়া গোলাম পরওয়ারের আয়ের একমাত্র উৎস ব্যবসা। ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বছরে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন।
জামায়াত সেক্রেটারির ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নগদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা জমা থাকার কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১৫ লাখ ৫ হাজার ৩৮৩ টাকা।
তিনি এসবের বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন আনুমানিক ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর কাছে নগদ ২ হাজার ৬৭৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৩৪৫ টাকা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্ত্রীর ১৫ ভরি স্বর্ণ থাকার কথা বলা হয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ছিল ৪৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারির স্ত্রীর কাছে অর্জনকালীন ৫২ হাজার ২০ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি ও ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিরুদ্ধে হওয়া ৪৮টি ফৌজদারি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২টি, খুলনায় ১৫টি ও নারায়ণগঞ্জে একটি মামলা হয়েছিল। মামলাগুলো ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে করা হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বাধিক ২০টি মামলা হয়েছে ২০১২ সালে। ২০১৭ সালে সাতটি এবং ২০১৮, ২০২১ ও ২০২৪ সালে চারটি করে মামলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।
হলফনামা অনুযায়ী, গোলাম পরওয়ার সব মামলায় খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয় ফৌজদারি মামলা নেই। মামলাগুলোর মধ্যে একটি বাতিল, ৩৮টি খালাস ও ৯টি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামায় মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখেন, তিনি চলতি বছর ৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৮ টাকা আয় করে ৫ হাজার ৬২৫ টাকা কর পরিশোধ করেছেন। দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী জামায়াতের সেক্রেটারি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ঢাকায় সবচেয়ে ধনী জামায়াত প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ কত