আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হলফনামায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের

সম্পদের তথ্য জানালেন তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর

গাজী শাহনেওয়াজ

সম্পদের তথ্য জানালেন তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীরা জমা দিয়েছেন সম্পদের হিসাব বা হলফনামা। বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রকাশ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হেভিওয়েট নেতাদের বড় একটি অংশ কোটিপতি, অনেকের আবার নিজের নামে কোনো বাড়ি বা জমি নেই। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদ এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বড় অংশই আছে এফডিআর (৯০ লাখ টাকা) ও নগদ অর্থ হিসেবে। পেশা হিসেবে রাজনীতি দেখানো তারেকের বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা এসেছে ব্যাংক সুদ, শেয়ার এবং সঞ্চয়পত্র থেকে এসেছে। নগদ অর্থ আছে ৩১ লাখ টাকা। এছাড়া তার একটি ভবন আছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমির ওপর, তবে উপহার হিসেবে পাওয়ায় তার মূল্য দেওয়া হয়নি। তার ৭৭টি মামলা ছিল, যেগুলো খালাস, অব্যাহতি ও নিষ্পত্তি হয়েছে। পিছিয়ে নেই তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও। তার সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৫৩ হাজার ১৯১ টাকা এবং চিকিৎসা পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ব্যতিক্রমী হলফনামা জমা দিয়েছেন। তার হাতে নগদ এক কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭২ টাকা থাকলেও নিজের নামে কোনো জমি বা বাড়ি নেই। তবে স্বর্ণালংকারের দিক থেকে তিনি বেশ বিত্তবান। নিজের ৩৫ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। শিক্ষকতা পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। তার নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, কৃষিজমি নেই। তবে তার স্ত্রীর আছে ১২ লাখ টাকা।

জামায়াত আমিরের আছে ডুপ্লেক্স বাড়ি

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার হলফনামায় চিকিৎসা পেশা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ টাকার। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। এছাড়া ২১৭ শতক কৃষিজমি রয়েছে। তার নামে একসময় ৩৪টি মামলা থাকলেও বর্তমানে কোনোটি কার্যকর নেই। অধিকাংশ মামলা থেকেই তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। এছাড়া নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ডা. শফিকের স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী। তার কোনো সম্পদ নেই।

নুরের সম্পদ ৯০ লাখ টাকা

পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রিটার্ন অনুযায়ী তার স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকার। এর মধ্যে বড় অংশ (৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা) এসেছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আমানত থেকে। তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকা। নুর নিজে একজন ব্যবসায়ী এবং তার আয়ের প্রধান অংশ অর্জিত হয় এ খাত থেকে।

এছাড়া নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার পেশায় শিক্ষক এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা এবং ব্যাংকে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা গচ্ছিত রয়েছে।

নাহিদের আয় ১৬ লাখ টাকা

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন। পরামর্শক পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ ৩০ লাখ টাকার। এর মধ্যে নগদ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রী ফাতেমাতুজ্জোহরা গৃহিণী। তার নামে ১২ লাখ টাকার সম্পদ ও সাড়ে তিন লাখ টাকার ব্যাংকঋণ আছে।

মামুনুল হকের নগদ অর্থ ৮৩ লাখ টাকা

ঢাকা-১৩ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। হলফনামায় তার আয়, পেশা ও ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী মামুনুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা। তার বার্ষিক আয় ১৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা আসে শিক্ষকতা ও পরামর্শক খাত থেকে। বাকি অংশ ব্যবসা থেকে। তার নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া বন্ড এক লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মূল্য দুই লাখ টাকা এবং অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য হিসেবে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি ফৌজদারি মামলা বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। আরেকটি মামলা স্থগিত রয়েছে। তৃতীয় মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর অধীনে দায়ের করা, যা চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামে তদন্তাধীন।

তফসিল অনুযায়ী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে জনগণের রায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন