বিমানের ওপর বোঝাই মালপত্র, প্রাণ হাতে নিয়ে আকাশপথে যাত্রা

বিমানের ওপর বোঝাই মালপত্র, প্রাণ হাতে নিয়ে আকাশপথে যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত।

স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ের কথা ভেবেই মানুষ বেশি অর্থ ব্যয় করে বিমানকে যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে বেছে নেন। কিন্তু সেই বিমানের অবস্থা যদি লোকাল বাসের থেকেও খারাপ হয়, আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে যদি কিছুই না থাকে তা হলে কেমন হবে?

শুনে অবাস্তব মনে হলেও এটাই সত্যি। মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর বিমান পরিষেবা অনেকটা এমনই।

বিজ্ঞাপন

কঙ্গোর বিমানগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। দেখলে মনে হবে যেন কোন মান্ধাতা আমল থেকে সেই একই বিমান ব্যবহার করা হয়ে আসছে। প্রকৃতপক্ষে তেমনটাই হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

কঙ্গো এমনিতেই অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত। কখনো গৃহযুদ্ধের দাপট, কখনো আবার জাতিগত সংঘাত। তার ওপর ইবোলার সংক্রমণে দেশটি সময়ের সঙ্গে যেন আরো পিছিয়ে পড়ছে। সেই দেশে বিমানব্যবস্থা যে উন্নত হবে, তা ভাবাও একপ্রকার ভুল বললে অত্যুক্তি হবে না।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

যদিও আকাশপথে ডিআর কঙ্গোর বিমানের তেমন দাপট নেই। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের বিমান ট্রাফিকে কঙ্গোর বিমান সংস্থার অবদান অতি নগণ্য। হয়তো আকাশে উড়ে বেড়ানো বিমানগুলোর এক শতাংশ কঙ্গোর বিমান সংস্থার অধীনে।

কিন্তু সেই এক শতাংশ বিমানই বিমান দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ‘দ্য অ্যাভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের’ ২০১৯ সালে করা পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সাল থেকে বিমান দুর্ঘটনার নিরিখে কঙ্গো রয়েছে বিশ্বের ৬ নম্বরে। আর বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির নিরিখে কঙ্গোর বিমানসংস্থা রয়েছে ৪ নম্বরে।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

সেখানকার বিমানগুলোতে পরিকাঠামোগত ত্রুটির শেষ নেই। বিমানে উন্নত ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থার উপস্থিতি কঙ্গোবাসীদের কাছে কল্পনাতীত বিষয়। জায়গায় জায়গায় রং উঠে মরিচা ধরেছে। অনেক সময় বিমান থেকে নামার জন্য সিঁড়ির বন্দোবস্ত করতে গিয়ে হিমশিম খান বিমানবন্দরের কর্মীরা।

কেবল বিমান নয়, কঙ্গোর বিমানবন্দরগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। কোনো উন্নত পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা তো নেই-ই, এমনকি বিমানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যবস্থাও অত্যন্ত অনুন্নত।

এখানে বিমানে মালপত্রের ওপর সাধারণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা পরীক্ষা করে দেখার উপায় প্রায় নেই বললেই চলে। বিমানে ব্যাগপত্রর রাখার আলাদা বন্দোবস্তও প্রায় নেই।

ভাইরাল বহু ভিডিওয় দেখা গেছে, বিমানবন্দরে টার্মিনালে, বিমানের ভেতরে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে ভেড়া-ছাগল। বহু বিমানযাত্রী কোলে পোষ্য ছাগল নিয়ে বিমানের ভেতর বসে রয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

ভাইরাল সেই সব ভিডিওয় দেখা গেছে, বিমানের ওপরে চড়ে দড়ি দিয়ে ব্যাগপত্র বাঁধছেন যাত্রীরা। যেন বাসে করে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছেন তারা। সেই ব্যাগপত্র বাঁধা অবস্থাতেই উড়ছে রংচটা, মরচে পড়া বিমান।

বাড়তি দুর্ঘটনার মাত্রা এবং বিমানগুলোর পরিকাঠামোগত অবস্থার সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থার কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ডিআর কঙ্গোর অন্যতম বিমান সংস্থা ‘কঙ্গো এয়ারওয়েজ়’-এর বিমান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

তবে এক বেসরকারি বিমান সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নবনির্মিত ডিআর কঙ্গোর অপর এক বিমান সংস্থা ‘এয়ার কঙ্গো’ বর্তমানে তাদের আঞ্চলিক বিমানগুলো উন্নত করার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত তারা কেবল দুটি বিমানই চালু করেছে। সেগুলো শুধু দেশের ভেতরেই যাতায়াত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদিও তাদের অবস্থা যে আহামরি, তা নয়। কিন্তু আগেকার তুলনায় অনেক ভালো বলা চলে।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন