প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করা এবং এর পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা।
তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আশুগঞ্জ উপজেলা শাখা বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং এদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সিএনজি, ট্রাক ও রিকশা মালিক সমিতি এবং আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিবিএ নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজা এলাকার সামনে ‘এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন এএফসিসিএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রহমান। আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী, উপজেলা জামায়াতের আমির শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহআলম সভাপতি, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুস।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল গ্যাস রেশনিংয়ের নামে সার কারখানা বন্ধ রেখে সার আমদানিতে লিপ্ত হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থেকে কারখানাটি যান্ত্রিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত গ্যাস সংকটের কারণে ২০১০ সালের পর থেকে বছরের বেশির ভাগ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এ অবস্থায় সারের আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আশুগঞ্জ সার কারখানাকে আধুনিকায়ন ও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে দ্রুত সচল করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।
অন্যথায় মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবার স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এর পূর্বনাম ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ নামকরণেরও জোর দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

