বাজেটের অঙ্ক বড়, কিন্তু বাস্তবায়নের চিত্র ছোট। গত অর্থবছরে ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ। উন্নয়ন তহবিলের অর্জন আরও কম, ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এমন বাস্তবতার মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। গত বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় এবার বরাদ্দ কমেছে ১১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় করপোরেশনের আয়-ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প ও নগর ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কেসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজস্ব তহবিল থেকে আয় অর্জনের হার ছিল ৭১ দশমিক ৭০ শতাংশ। বিপরীতে উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্জন হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। সব মিলিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশে থেমেছে। প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার বাজেটের আকার কমেছে।
নতুন বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে আয় ধরা হয়েছে ২২১ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪১ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারি অনুদান ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ এবং বিশেষ প্রকল্প অনুদান ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বাজেটের মোট আয়-ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।
এবার নতুন কোনো কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়নি। বকেয়া কর আদায়, নতুন নির্মিত স্থাপনা করের আওতায় আনা এবং বাজার-দোকান ও নতুন স্থাপনা থেকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে কেসিসি। জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ ও নগরের পার্ক আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিজস্ব তহবিল থেকে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে জনপূর্ত, অবকাঠামো, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সামাজিক কল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও পরিচ্ছন্নতা খাতে। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা।
কেসিসির দুটি বড় প্রকল্পও সামনে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভায় অনুমোদন পাওয়া নগরের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৫৫ কোটি ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। আর জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় হবে ৪১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি শিগগিরই একনেকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

