বৃক্ষ কর্তনকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

বৃক্ষ কর্তনকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলে ও কেটে নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এ কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের বাবনী সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশে শতাধিক বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১ আগস্ট কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের দুই পাশে ১২ শতাধিক বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু দুই দিন আগে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা প্রায় অর্ধশতাধিক চারা উপড়ে ফেলে নষ্ট করেছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যারা রোপণ করা গাছের চারা উপড়ে ফেলেছে বা কেটে নষ্ট করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। একটি চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেটির পরিচর্যা ও সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা চারাগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

শুক্রবারের কর্মসূচিতে বাবনী সেতু সংলগ্ন সড়কের পাশে শতাধিক বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক ও লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন