নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

নারীস্বাস্থ্যে ঋতু বদলের প্রভাব

ঋতু পরিবর্তনের সময় কারো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি বাড়ে, কারো ত্বক ও চুলের সমস্যা দেখা দেয়, আবার কারো মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। এসব পরিবর্তনের সবই যে ঋতুর কারণে হবে, এমন নয়। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আয়রনের ঘাটতি

মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কিছু নারীর আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ফ্যাকাশে ভাব দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে। নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি

মাসিকের সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি পণ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে এবং ব্যবহৃত পণ্য যথাযথভাবে ফেলে দিতে হবে। মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অস্বাভাবিক মাসিকের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন। এক-দুবার সামান্য তারতম্য সবসময় গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত নয়। কিন্তু মাসিক বারবার অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা, খুব ঘন ঘন হওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রক্তপাত হলে কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

ত্বকের যত্ন

আবহাওয়ার পরিবর্তনে ত্বক কখনো বেশি শুষ্ক, আবার কখনো বেশি তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে কারো কারো ব্রণ বা ত্বকের অস্বস্তি বাড়তে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু পরিষ্কারক ও প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন

ঋতু পরিবর্তনের সময় চুল পড়া, খুশকি বা মাথার ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ভেজা চুল দীর্ঘ সময় না রাখা এবং অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার কমানো উপকারী। হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা

ধুলাবালি, পরাগরেণু, ছত্রাক ও আবহাওয়ার পরিবর্তন কিছু মানুষের অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়াতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া বা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা অন্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে চলা এবং পরিচিত ট্রিগার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রস্রাবের সমস্যাকে অবহেলা নয়

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, তলপেটে অস্বস্তি বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এসব উপসর্গের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, কোমর বা পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

নারীর বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নারীস্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কোন পরীক্ষা কখন প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই ভালো।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান

জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন