বৃষ্টির মাঝেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট

বৃষ্টির মাঝেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট

আগামী কয়েকদিন কমবেশি বৃষ্টি থাকলেও বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে সারাদেশে ভ্যাপসা গরমের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভাদ্র মাসের এই কয়েক দিন ছাড়াও আশ্বিনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এ ধরনের ভ্যাপসা গরম বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, বছরের এই সময়ে বাতাসে জলীয় বাষ্পের প্রভাব বেশি থাকে, ফলে বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমলেও অনুভূত গরমের মাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকে। তার ভাষ্যে, তাপমাত্রা এখন ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও অনুভূত হচ্ছে প্রায় ৪০ ডিগ্রির মতো।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় রংপুরে, ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানীতে ৩৩ ডিগ্রি। এ দিন সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় ফেনীতে, ৬৯ মিলিমিটার, আর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়নি একেবারেই। বাতাসে আর্দ্রতা সকালে ছিল ৮৯ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৬৮ শতাংশ।

আবহাওয়াবিদ বিশেষজ্ঞ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে পারছে না, বরং বৃষ্টির পরই রোদের প্রখরতায় ভ্যাপসা গরম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তাপ বেরোনোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে থার্মোমিটারের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয়।

এ ছাড়া আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার এল নিনোর প্রভাবে সারাবিশ্বেই তাপমাত্রা বেড়েছে, যার ছাপ পড়েছে বাংলাদেশেও। যুক্তরাষ্ট্রের এনওএএ ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ব দেড়শ বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো চক্রের মুখোমুখি হতে পারে, যা আগস্ট থেকেই সক্রিয় হতে শুরু করেছে এবং বছরের বাকি সময়েও আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে, যা কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও অনাবৃষ্টির কারণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে, তবে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। দিন-রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে—মৃদু তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রি এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে ৩৮-৩৯.৯ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, বিদায়ী আগস্টে বঙ্গোপসাগরে মোট চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যার দুটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নেয়, আর মাসজুড়ে ১০-১২, ২২ এবং ২৬-৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল।

সিনপটিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ সংলগ্ন এলাকার লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই অক্ষরেখা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত, আর মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় আছে।

এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

এছাড়া রোববার ও সোমবারও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে, তবে তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। আগামী বুধবার নাগাদ বৃষ্টির পরিধি কিছুটা সংকুচিত হলেও তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন