তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন: কৃষিমন্ত্রী


তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। ছবি: আমার দেশ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। দেশের কল্যাণে তিনি তাঁর জীবন-প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।

তাঁর মৃত্যুর পর ভাঙা সুটকেস এবং ব্যাংক হিসাবে সাড়ে ৩শ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। দেশের মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ, সততা ও সাধারণ জীবনযাপন আমাদের জন্য অনুকরণীয়।’ আমরা সেই জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীকেই সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের প্রশ্ন করুন—আপনি যে নেতার আদর্শে রাজনীতি করেন, আপনার চরিত্র ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেই নেতার আদর্শের কতটুকু মিল রয়েছে। বিষয়টি প্রত্যেকের নিজের বিবেক দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এটি জনগণের দেশ, গণতন্ত্রের দেশ। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা সরকার গঠন করতে পেরেছি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় ক্ষমতার অধিকারী জনগণ; কোনো সরকার নয়।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ নেই, যেখানে কোনো সরকার জনগণের ওপর চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। ইতিহাসে বহু শক্তিশালী শাসক ও সরকার এসেছে, আবার সময়ের পরিক্রমায় তাদের বিদায়ও নিতে হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল শক্তিই হলো জনগণ। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস—এ কথা সবসময় মনে রাখতে হবে।’

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষি ও কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই সরকার বিশ্বাস করে, কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ বিষয়ে বিশ্বাস করেন। আমিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন, তা করতে সরকার মানসিকভাবে প্রস্তুত। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এ দেশের মানুষের প্রিয় কৃষি খাতের উন্নয়ন। কৃষকের ঋণ মওকুফসহ কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং কৃষকের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগগুলো একের পর এক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় আমাদের অনেক কৃষিপণ্য আমদানি করতে হতো। এখন অন্তত পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমাদের আমদানিনির্ভরতা কমেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আর পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না; বরং আমরা পেঁয়াজ রপ্তানির চিন্তা করব। একইভাবে ভবিষ্যতে আরও কিছু কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে সেগুলো রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।’

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া এমপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিবসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন