জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে দায়িত্ব পেলে সর্বপ্রথম নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। মায়েদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা এর বিরোধিতা করে, তারা দেশ ও জনগণের ভালো চায় না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা–১৬ আসনের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ে কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করার প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি। কিন্তু অনেকেই বিষয়টি না বুঝে অপপ্রচার চালাচ্ছে—বলছে, আমরা নাকি মায়েদের ঘরবন্দী করতে চাই। প্রকৃতপক্ষে যারা এ ধরনের অপপ্রচার করছে, তারাই মায়েদের অকল্যাণ চায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল বেকার ভাতাসহ নানা কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমরা সে পথে যাব না। আমরা বেকার তৈরি করবো না; বরং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। কারণ দেশের মানুষ ভিক্ষা বা ভাতা নয়, কাজ চায়।
তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, আমি এখানে হাজার হাজার শহীদ ও আহত যোদ্ধার দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা যদি তা না পারি, তবে ফ্যাসিবাদ ও দাসত্ববাদের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও ওসমান হাদিসহ সকল শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। আমরা তা হতে দেব না।
শহীদ আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদিসহ সকল শহীদের হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গর্হিত কাজ করার সাহস না পায়।
জামায়াত আমির বলেন, পল্লবী–রূপনগর এলাকায় নানা সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ আমাদের নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ আমরা এসব সমস্যার সমাধান করবো। তিনি আরও বলেন, দেশকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তরের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, মিরপুরে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে অনেকের মন খারাপ হয়ে গেছে। তাই আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু ভোটাররা জানে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ কী। বাস্তবতা হলো—সারাদেশেই জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এবার দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমি ১৮ কোটি মানুষের পাশে আছি। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করবো ইনশাআল্লাহ।
সভায় তিনি ঢাকা–১৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ঢাকা- ১৬ আসনের কর্নেল (অব:) আব্দুল বাতেন এর হাতে দাড়িপাল্লার প্রতিক তুলে দেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা–১৬ আসনের পরিচালক জনাব মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং আসন সদস্য-সচিব আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এনসিপি ঢাকা মহানগরীর আহ্বায়ক আদিব আরিফ, কাজী আসাফউদ্দোলা, এবি পার্টির ইঞ্জিনিয়ার গাজী সাবের আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুফতি আজীজুর রহমান, মুফতি মাওলানা আহসান উল্লাহ কাসেমী, খেলাফত মজলিশ ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, ঢাকা–১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা বি. জে. জিয়া ও মেজর সাহিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

