সিইসির সঙ্গে বৈঠক

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার ‘তীব্র বিরোধিতা’ জামায়াতের

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার ‘তীব্র বিরোধিতা’ জামায়াতের
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদল বুধবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই সঙ্গে দলটি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে বিএনপি নেতা দাবি করে তার নিয়োগ বাতিল চেয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি জানায়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বচ্ছ-গ্রহণযোগ্য করতে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে এক মাস আগে আমরা একটা চিঠি পেয়েছিলাম। এ বিষয়ে দুটিসহ ৯টি প্রস্তাব দিয়েছি। চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া যায় না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী জায়গায় দায়িত্ব পালনকারী এক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থায় অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করে নিয়ে আসার জন্য তাকে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে এখানে বসানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশন থেকে জানানো হয়, তারা ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় আগে জানতে পারেনি এবং সম্প্রতি গণমাধ্যমের বরাতে এটি তাদের গোচরে এসেছে। তবে তারা এক্ষেত্রে নিজেদের একপ্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে।’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব বা সুপারিশ অনুমোদন করেছে। তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কোনো প্রকার অংশীজন বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় ছাড়াই এ ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। বিষয়টিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৬ ও ২৭ অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার এবং রাজনীতি করার সুযোগ হরণের প্রশ্ন হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা রাজনীতিতে জড়ালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন যুক্তি কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোট করতে দেওয়া হোক।’

নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত দলের পদধারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার বা আইনের মাধ্যমে যেসব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই দলের বিভিন্ন স্তরের পদধারী ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। রাজনীতি মূলত ব্যক্তিরাই করেন। তাই একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও একধরনের রাজনীতি করা, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন