ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। জামায়াত একটা রাজনৈতিক দল। দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক এতে রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি কৃষ্ণ নন্দিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’
আমার দেশ অনলাইনে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
রোববার আমার দেশকে মুফতি উসামা বলেন, ‘আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না, আমরা মওদুদির আকিদা পোষণ করি। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়; বরং রাজনৈতিক। তারা এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করে।’
তিনি বলেন, ‘কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।’
মুফতি উসামা বলেন, ‘সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে?’
উসামা আরো বলেন, ‘দেওবান্দিয়াত কোনো দলের নাম নয়। তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর নাম দেওবান্দিয়াত। আমি দেওবন্দি ছিলাম, আছি এবং চিরকাল থাকব ইনশাআল্লাহ। আমি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলাম। সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছি। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে। যার কারণে কেউ জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারিও কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা কওমির নাম বেচে ঠিকাদার সেজে বিএনপিকে বাংলাদেশের কংগ্রেস ভেবে পদলেহন করে এবং এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের ধান্ধা করে, বর্তমান সচেতন তরুণ প্রজন্ম তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’
আমার দেশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কওমি ঘরানার কয়েকজন সুপরিচিত আলেম এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শোনা যাচ্ছে, একই পথে হাঁটছেন বিভিন্ন কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।’
‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে স্বীকার করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের বৈঠকের এজেন্ডায় এটা ছিল না। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের সাথে আমাদের আলেমদের জোট থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। এ জন্যই হেফাজতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেননা অনেক আলেম এখনো জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থিদের ইসলামী দল মনে করেন না।’
‘তিনি আরো বলেন, কওমি তরুণদের একটা অংশ বিএনপির দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। সেই দলে যোগও দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


