গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে অচেতন তরুণীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম সাহেনা বেগম সুমী (২৬)। তিনি একজন বাউলশিল্পী। বউবাজার এলাকায় বড় বোনের বাসায় থেকে বিভিন্ন জায়গায় গান গাইতেন।
পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে মানসিক চাপে পড়ে তিনি নিজেই মদ পান করেন। শনিবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি তা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে তার বড় বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মোটরসাইকেলের দুই তরুণকে খুজে বের করতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।
সুমীর ভাষ্যমতে, পারিবারিক অশান্তি সহ্য করতে না পেরে তিনি টঙ্গীর বাসা থেকে একাই উত্তরার মদের বারে গিয়ে মদ পান করেন। সেদিন মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। মদপানের পর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তিনি তাদের ফোন করলে তারা এসে তাকে নিয়ে যান বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে চরম অশান্তিতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণী অকপটে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ পান করেছি। আমাকে কেউ খাইয়ে দেয়নি।’
মানসিক চাপ ও সাংসারিক অশান্তি থেকে নিজের জীবন শেষ করে (আত্মহত্যা) দেওয়ার ক্ষোভে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকার কিচেন হাউজ বারে গিয়ে মদ পান করে বেসামাল হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে উদ্ধার করে ঢাকার মিরপুরে বান্ধবীর বাসায় রেখে আসেন।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (অপরাধ দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মেয়েটিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বর্তমানে সে স্বাভাবিক রয়েছে। পারিবারিকভাবে সে বিভিন্ন সমস্যায় থাকায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজেই বারে গিয়ে মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তরুণীকে আপাতত তার বড় বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে অচেতন অবস্থায় পা ঝুলে থাকা ওই তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

