গ্যাসের নমুনা ঢাকায়, ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ ফেরদৌস শিপইয়ার্ড

গ্যাসের নমুনা ঢাকায়, ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ ফেরদৌস শিপইয়ার্ড
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ। ছবি: আমার দেশ

নয় শ্রমিকের প্রাণহানির পরও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতর থেকে সংগৃহীত গ্যাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নমুনার পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজের ভেতরে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, গতকাল নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফেরদৌস শিপইয়ার্ডের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলের রাব্বি আমার দেশকে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিসহ একাধিক তদন্ত কমিটি এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল টিম দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। জাহাজ থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নমুনার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজে থাকা গ্যাসটি কী ধরনের বিষাক্ত গ্যাস, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। রিপোর্ট ছাড়া কোনো তদন্ত কমিটির পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। বিভিন্ন কমিটি ও টেকনিক্যাল টিম পারিপার্শ্বিক ও কারিগরি তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফজলের রাব্বি আরও বলেন, জাহাজের ভেতরে প্রবেশ এখনো নিরাপদ নয়। নমুনার রিপোর্ট ও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট ভাটিয়ারীর ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো জাহাজের ট্যাংকে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন শ্রমিকরা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় প্রাণ হারান নয় শ্রমিক।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তা, গ্যাস শনাক্তকরণ ও গ্যাসমুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জাহাজের বদ্ধ ট্যাংকে শ্রমিক প্রবেশের আগে গ্যাসের উপস্থিতি ও মাত্রা যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের নজর রয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গ্যাসের নমুনা পরীক্ষার ফলকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষায় গ্যাসের ধরন ও মাত্রা, এর উৎস এবং কীভাবে তা শ্রমিকদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল, এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জাহাজ কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা ফেরদৌস শিপইয়ার্ড কবে চালু হবে, তা এখন নির্ভর করছে ঢাকার ল্যাবে পাঠানো গ্যাসের নমুনার পরীক্ষার ফল ও বিশেষজ্ঞদের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজে প্রবেশ কিংবা শিপইয়ার্ডের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া হবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...