দাদনের জালে দুঃসহ জীবন যমুনাপাড়ের জেলেদের

দাদনের জালে দুঃসহ জীবন যমুনাপাড়ের জেলেদের
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর চুনিয়াপাড়া ঘাট এলাকায় জেলেদের নৌকা। আমার দেশ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাস করেন দরিদ্রতার শিকলে বন্দি তিন শতাধিক জেলে পরিবার। যমুনা নদীকে ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা। তারা সরাসরি মাছ ধরা পেশায় জড়িত। কিন্তু তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন দাদন ব্যবসায়ীদের বিশাল সিন্ডিকেটের কাছে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের (ঋণ) টাকায় জেলেদের নৌকা তৈরি ও জাল কিনতে হয়। বছরের পর বছর দাদন ব্যবসায়ীদের গদিতে (আড়তে) মাছ বিক্রি করেন তারা। কিন্তু শোধ হয় না ঋণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা চলে জেলেদের। কিন্তু মাছ ধরার আগেই অনেকের জীবন আটকে যায় দাদনের জালে। নৌকা, জাল কিংবা সংসারের খরচ মেটাতে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নদীতে নামেন তারা। পরে মাছ বিক্রি করে ওই ঋণ শোধ করতে গিয়ে বছরের পর বছর কাটে দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে। নদীতে মাছ কম অথচ খরচ বেশি। ফলে কাঙ্ক্ষিত আয় হয় না। একদিকে দাদনের টাকা শোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের নিত্যদিনের খরচ। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা আর অভাব যেন জেলেদের নিত্যসঙ্গী। এভাবেই দাদনের দুষ্টচক্রে জেলেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রতারিত হন। বঞ্চিত হন শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে।

বিজ্ঞাপন

যমুনাপাড়ের জেলে আশরাফ আলী, বানেশ্বর, নিখিল ও চন্দন হাওয়ালদার বলেন, প্রতিবছরই ভাবি এবার ঋণমুক্ত হব। কিন্তু মৌসুম শেষে হিসাব করলে দেখা যায় সুদই বেড়েছে। সংসারের খরচ, নৌকা ও জাল মেরামত আর নৌকার তেলের জন্য আবার নতুন করে দাদন নিতে হয়। নদীতে মাছ কম পেলেও ঋণের কিস্তি ঠিকই দিতে হয়। বাজারে ভালো দাম থাকলেও আমরা অন্য কোথাও মাছ বিক্রি করতে পারি না। দাদন নেওয়ার শর্তেই নির্দিষ্ট আড়তে মাছ দিতে হয়। তাদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দাদনের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন তারা।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ও দাদনদাতা আজম আলী, রাজ্জাক ও মন্টু হাওয়ালদার জানান, জেলেদের প্রয়োজনে আমরা টাকা দেই। অনেক সময় তারা কয়েক মাস বা এক মৌসুম পর টাকা ফেরত দেন। এতে আমাদেরও ঝুঁকি থাকে। তাই নির্দিষ্ট আড়তে মাছ বিক্রির শর্ত রাখা হয়। তবে সুদের হার নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, সেটি সবাই একভাবে নেন না।

ধুনট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ বলেন, জেলেরা ব্যাংকঋণ নিতে চাইলে মৎস্য বিভাগ সহযোগিতা করবে। ব্যাংকঋণের সুযোগ বাড়ানো গেলে দাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জেলেরা মাছের ন্যায্যমূল্যও পাবেন। জেলেদের নিরাপত্তাসহ তাদের স্বাবলম্বী করতে মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন