পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সোহেল সিকদারের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো বরিশালের বাকেরগঞ্জের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা আক্তারের দুই এতিম শিশু সন্তান সাফওয়ান ও তাসফিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল।
মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি সোমবার দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে নিহতের বাবার বাড়িতে ছুটে যান। তার সঙ্গে ছিলেন শরশী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ওসি আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক এনায়েত হোসেন খান বিপু।
সেখানে পৌঁছে তিনি নিহতের বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া মুক্তার মা এবং অনাথ দুই শিশু সন্তান—সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)-কে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান। তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই শিশু সন্তানের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এ সময় মুক্তার অবুঝ দুই শিশু ডুকরে কেঁদে উঠে বলে, ‘‘বাবাই আমাদের মাকে মেরে ফেলেছে।’’ অবোধ শিশুদের এই করুণ আর্তি ও স্বজনদের আহাজারিতে সে সময় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মেয়েটিকে মিথ্যা অপবাদ ও যৌতুকের লোভে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আসামি যেন কোনো অবস্থাতেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায় সেজন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিহত মুক্তার পরিবারের পাশে থাকবে।
উল্লেখ, মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে সোহেল তার স্ত্রী মুক্তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। নির্যাতনের সেই লোমহর্ষক ভিডিও ধারণ করে মুক্তার ভাই তারেক হাওলাদারের মোবাইলে পাঠিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন ঘাতক সোহেল। তারেক তাঁর বোনকে না মারার জন্য আকুতি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি; মারধরের একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

