বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ৫৫ বছরেও শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। শ্রমিক তার অধিকার আদায়ে জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের পাশে শামিল হয়ে জীবন দিয়েছেন। এতে তিন শতাধিক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। শিগগিরই তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন- নৌযান সেক্টর আয়োজিত নৌ শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ নানামুখী বৈষম্যের শিকার। নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এ সময় শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ থাকলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও অধিকাংশ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মজুরি বোর্ড, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, চাকরির বিধিমালা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশনিং ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক নেতাদের উন্নয়ন হলেও সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি, এ জন্য শ্রমিক নেতৃত্বেরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, নৌ-শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরি, নিয়োগপত্র প্রদান এবং নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিমের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও নৌ সেক্টরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, নৌযান সেক্টরের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান, দোকান-কর্মচারী শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নৌ সেক্টরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইকবাল, ঢাকা মহানগর উত্তর নৌ সেক্টরের সভাপতি ওসমানগণী সহ শ্রমিক নেতারা।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


