‘জুলাই ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না; জুলাই ভূলুণ্ঠিত হলে আমাদের দেশ ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’—বলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি আজ ২৫ জুলাই শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘তুলিতে জুলাই’ নামে আর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জুলাই উদযাপন কমিটি, উত্তরার আহ্বায়ক রোকেয়া বেগম এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কামরুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, ইব্রাহিম খলিল, মাজহারুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গাজী মনির হোসাইন, ইসরাফিল হোসেন, সুরুজ্জামান, জাকির হোসাইন, তাহমিদ হুজাইফা, তালহা জোবায়ের সজিব, ইমরান হোসাইন প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী মহাকাব্যিক; মহাবিজয়ের একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবের নাম। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের মতো একটি মহৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা বন্দুক, স্নাইপার ও সর্বাধুনিক মারণাস্ত্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে; কোনো কিছুর পরোয়া না করে ভয়কে জয় করে দুর্বার ও আপসহীন আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। আর এ বিজয় ছিল ছাত্র-জনতার জন্য অবশ্যম্ভাবী। এ বিজয়ের মাধ্যমেই দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং সকল ক্ষেত্রে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সদিচ্ছার অভাব ও ক্ষমতাসীনদের অতিমাত্রায় ক্ষমতালিপ্সার কারণেই আমাদের সে অর্জন হাতছাড়া হতে চলছে। কিন্তু দেশপ্রেমী ছাত্র-জনতা সে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না।’
তিনি সরকারকে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের রক্তের বিনিময়েই জুলাই বিজয় এসেছে। কিন্তু সরকার জুলাই বিচ্যুত হয়ে জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে। এজন্য তারা সংবিধানের দোহাই দিতে কসুর করছে না। এমনকি তারা সংবিধানের অপব্যাখ্যা করে জুলাই সনদকে পাশ কাটাতে চাচ্ছে। তারা জুলাই সনদকে প্রেসিডেন্টের আদেশ বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অথচ প্রেসিডেন্টের আদেশেই ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি মিলেছিল। সে আদেশেই নির্বাচনও হয়েছে। ভোটের ক্ষেত্রে অবৈধ হলেও জুলাই সনদের ক্ষেত্রে তা হয়েছে অবৈধ। এখন গোস্ত হালাল আর ঝোল হারাম হয়ে গেছে। মূলত, সরকার জুলাই সনদ নিয়ে রীতিমতো ভানুমতির খেলায় মেতে উঠেছে।’
তিনি সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদের অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারকে এজন্য চড়ামূল্য দিতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

