উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তিন নেতা মাজার প্রাঙ্গণে অবস্থিত তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি।
শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আকরাম হোসাইন, জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহদী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য দিদার শাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেবল একজন নির্দিষ্ট নেতাকে কেন্দ্র করে অন্য জাতীয় নেতাদের অবদান আড়াল করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারও তাঁদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। জাতীয় নেতাদের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে আলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেরেবাংলার কৃষকবান্ধব রাজনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করেছেন এবং সব ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভেদ উপেক্ষা করে হিন্দু-মুসলমান কৃষকদের ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শেরেবাংলার এই আদর্শ অনুসরণ করে একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলে তীব্র সারসংকট, ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কৃষকদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পঞ্চগড়ে মাত্র দুই টাকায় লাউ বিক্রি হলেও ঢাকায় এসে তা ৬০ টাকায় বিক্রির উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন না?
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবিলম্বে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট কঠোরহস্তে দমন করা, পর্যাপ্ত হিমাগার ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ, কৃষিঋণে সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ এবং সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর জোর দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষকবান্ধব রাজনৈতিক আদর্শ দেশের সব রাজনৈতিক দলেরই অনুসরণ করা উচিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


