গত ১৪ মে ২০২৬ ইং মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজার এলাকায় সংঘটিত হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও জননিরাপত্তার জন্যও অশনিসংকেত। আমরা মনে করি, কোনো মতপার্থক্য কিংবা চর্চাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হামলার পথ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বান জানাচ্ছে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর মনে করে, মাজারকে কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনা বা চর্চারকেন্দ্র হিসেবে দেখার পরিবর্তে এটি যেন ধর্ম, গোত্র ও মতভেদ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা জরুরি। যুগ যুগ ধরে এ ধরনের স্থান আমাদের সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান, শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য মাজার এলাকাকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সহনশীল আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এসব কেন্দ্রকে ঘিরে যেন ভয়, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই দায়িত্ব।
আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শান্ত, সংযত ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার ও জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

