ইসলামের শিক্ষা সম্পদের সঠিক ব্যবহার

ইসলামের শিক্ষা সম্পদের সঠিক ব্যবহার

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই ধরণী। কিন্তু এখানের সব সম্পদ অফুরন্ত বা নবায়নযোগ্য নয়। যেসব সম্পদ অনবায়নযোগ্য বা ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায়, তা ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। অন্যথায়, একসময় দেখা যাবে—ব্যবহার উপযোগী সম্পদের পরিমাণ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে। অবশ্যই আমরা সম্পদের ব্যবহার করব, তবে তা যথাযথ হতে হবে। আমরা অযথা কোনো সম্পদের অপচয় করব না। সঠিক ব্যবহারেই বৃদ্ধি পাবে সম্পদ।

বিজ্ঞাপন

সচেতনতার অভাবে প্রচুর সম্পদের অপচয় হয়, এর সঠিক উদাহরণ হলো সরকারি বা পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুটি সম্পদের অপচয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—প্রথমত, বিদ্যুতের অপচয় আর দ্বিতীয়ত, পানির অপচয়। যদিও আরো অনেক সম্পদের অপচয়ই হয়; তবে এই দুটি প্রধান। যেমন : দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ চিত্র হলোÑকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক ফ্যান, লাইট, এসি সারাদিন চালানো থাকে। মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনে পানির নল খোলাই থাকে। একই চিত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও। পানির কল বা নল খোলা থাকলে পানির অপচয় হতেই থাকে।

বিদ্যুতের সংকট ইতোমধ্যেই দেশবাসীর নজরের বাইরে নয়। দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব সর্বস্তরেই বিরাজমান। হ্যাঁ, বিদ্যুৎ উৎপাদন অথবা আমদানি করে এই সংকট আপাতত দূর করা সম্ভব, কিন্তু অপচয়ের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আবারও ফিরে আসবে। অপচয় না করলে বা যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করলে হয়তো একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে আরো অনেক বেশি দিন জোগান দেওয়া যাবে, যা সম্পদের ব্যবহারযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। পানির বিষয়টাও কিছুটা একই ধরনের। পানি হয়তো অফুরন্ত সম্পদ, কিন্তু পানির অনেক উৎস থাকলেও সুপেয় পানির উৎস কম। অপচয়ের ফলে দেখা যাবে—একসময় সুপেয় পানির পরিমাণ কমে যাবে। আবার পানিদূষণের কারণেও পানযোগ্য পানির পরিমাণ কমে যায়, যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় লক্ষণীয়। এর বড় উদাহরণ হলো ঢাকা। ঢাকায় বসবাসকারী মানুষ চাইলেই যেকোনো পানির কল থেকে সরাসরি পানি পান করতে পারে না; যা ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত ভীতিকর বিষয়। এভাবে আমরা যদি পানির সঠিক ব্যবহার না করি, তাহলে একসময় সুপেয় পানির জন্য হয়তো প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে; যা আমাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

অথচ কোরআন মাজিদে সম্পদের অপচয় সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আল-আরাফ : ৩১) অন্য আয়াতে বলেছেন, ‘নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা আল-ইসরা : ২৭)

সুতরাং, আমাদের সব সম্পদ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। বুঝতে হবে সম্পদ অপচয়ের ভয়াবহ ফল। এ ক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থীকে এগিয়ে আসতে হবে; নিজে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করার জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এভাবে সম্পদ অপচয় না করলে বা সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের গুরুত্ব সবাইকে উপলব্ধি করাতে হবে। আজ যে সম্পদ অফুরন্ত মনে হয়, অপচয়ে তাও নিঃশেষ হতে পারে। সর্বোপরি ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। তবেই আমাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন