বান্দার সঙ্গে রবের নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের অত্যন্ত কাছে চলে যায়। ইবাদতের মধ্যে রয়েছে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত প্রভৃতি। নামাজ বান্দার জন্য নিত্যদিনের ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত, তথা ফরজ। আর রোজার জন্য নির্ধারিত মাস রমজান। নামাজ যেমন ফরজ ব্যতীত সুন্নাহ ও নফল রয়েছে, তেমনি রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল ও সুন্নাহর বিধান রয়েছে। আর আইয়ামে বিজের রোজা এমনই একটি সুন্নাহ।
আরবিতে ‘আইয়ামে বিজ’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র দিবস। প্রতি মাসের এই দিনগুলোয় চাঁদ পূর্ণিমার পূর্ণ আলো দেয়, যার কারণে এই দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ নামে অবহিত করা হয়। মূলত, হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখই আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিবস। প্রত্যেক হিজরি (আরবি) চন্দ্র মাসের ১৩‚ ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখতে হয় এই রোজা। রাসুল (সা.) এই রোজার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং অসংখ্য ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিসে নববিতে উল্লেখ আছে, আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (তিরমিজি : ৭৬১)
আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নিয়ম
প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রাখতে হয়। এই রোজার নিয়ম ফরজ রোজার মতোই। রোজার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। নিয়ত মনে মনে করতে হয়। নিয়ত রাতে বা ফজরের আগে করা উত্তম। (মুসলিম : ১১৫১)
আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত
আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী নবী করিম (সা.) আইয়ামে বিজের রোজা রাখতে সাহাবিদের নির্দেশনা করেছেন। হাদিসে এই রোজাকে সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আবু হুরায়য়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।’ (বুখারি : ১৯৭৯)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।’ (বুখারি : ১৫৬৬; মুসলিম : ১৪০০)
রোজা আমাদের মাঝে তাকওয়া ও আত্মসংযম সৃষ্টি করে। এটি আমাদের চোখ, কান, জিহ্বা এমনকি নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। সব পাপের বিরুদ্ধে ঢালস্বরূপ ভূমিকা রাখে। আমাদের উদ্বুদ্ধ করে নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, মানুষের প্রতি উদার ও মহানুভব হতে এবং প্রস্তুত করে রবের হুকুম আঁকড়ে ধরতে।
রোজা এমন ইবাদত, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দান করবেন। এটি মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে, কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্তরে ঈমানের আলো প্রসারিত করে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তার ইবাদতে শামিল হওয়ার তৌফিক দিন এবং ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত করার তৌফিক দান করুক, আমাদের প্রতিটি আমলের বিনিময়ে দান করুন তার নৈকট্য। আমিন।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

