কোনো আইনি কাঠামো ছাড়াই সিএসআর (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) খাতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়মের বালাই না থাকায় যথেচ্ছভাবে এ খাতে অর্থ ব্যয় করেছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। যাকে খুশি তাকে অর্থ দেওয়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি অনেককে খুশি করার জন্যও দেওয়া হয়েছে অর্থ বরাদ্দ।
মূলত ২০২০ সালে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের প্রচলন শুরু করেন। এরপর নিয়মিতভাবে এ খাতে অর্থ ব্যয় করে আসছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসইসির সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে পারে। বিএসইসি কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় সংস্থাটির এ খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান সিএসআর করতে পারে বলে আমার জানা নেই। করপোরেট সেক্টর তাদের লাভের একটা অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা বড় কোনো করপোরেট হাউস তাদের একটা লাভের অংশ সমাজের উন্নয়নে ব্যয় করে থাকে। কিন্তু সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের সুযোগ নেই। যে খাতেই খরচ করুক, এটা তারা করতে পারে না।
বিএসইসির সাবেক কমিশনার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী আমার দেশকে বলেন, আমরা কমিশনে থাকার সময় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা ঘটেছে শিবলী রুবাইয়াতের আমলে। নানা অনিয়ম করে পুরো শেয়ারবাজারকে রুবাইয়াত কমিশন ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এ কমিশনার আরো বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সিএসআর থাকতে পারে না। এটা চূড়ান্ত অর্থে দুর্নীতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাবেক এ কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে, বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগ করে থাকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর থাকতে পারে। কিন্তু বিএসইসির মতো একটি অলাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিএসআর বলতে কোনো কিছু থাকতে পারে না।
সিএসআর খাতে ব্যয়ের তথ্য চেয়ে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী বিএসইসির তথ্য কর্মকর্তার কাছে এ প্রতিবেদক আবেদন করেন এবং একই সঙ্গে সিএসআর খাতে ব্যয়ের নীতিমালার বিষয়টি জানতে চান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাওয়া সিএসআর খাতে ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্পোর্টস জোন তৈরি, বার্ষিক বনভোজন, মুজিব জন্ম শতবর্ষ উদযাপন, অফিসের সাজসজ্জা, ইফতার, উৎসব বোনাস, কবরস্থান কিংবা ঈদগায়ের উন্নয়নের কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিয়মিতভাবে এ খাতে অর্থ ব্যয় করেছে বিএসইসি।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএসআর খাত থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ অর্থ দেওয়া হয়। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশেষায়িত হাসপাতালকে দেওয়া হয় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। একই পরিমাণ টাকা দেওয়া হয় বিএসইসির অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে। বিএসইসির নিজস্ব ভবনের ছাদে মসজিদ ও স্পোর্টস জোন নির্মাণের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার জন্য দেওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। বিএসইসির তৎকালীন শুভেচ্ছা দূত ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে মাগুরা সদর হাসপাতালে সহায়তার জন্য দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত হন ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শিবলী রুবায়াইত উল ইসলামের আমলেও শুভেচ্ছা দূত ছিলেন তিনি। শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় অভিযুক্ত বহুল আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর সঙ্গে শেয়ার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দায়ে হিরু ও সাকিবকে বিপুল অর্থ জরিমানা করে বিএসইসি।
এদিকে বিএসইসির সিএসআর খাত থেকে শেখ মুজিবের জন্মদিন উদযাপনে চন্দ্রাবতী একাডেমিকে চার লাখ টাকা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে (ডিআরইউ) প্রায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয় বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধে এবং মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয় শিক্ষা বৃত্তির জন্য।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএসআর খাতে ব্যয় বরাদ্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ধরনের প্রাধান্য দেখা গেছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী, ঢাবি কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৩২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সিএসই বিভাগের ৪৬ এবং ৪৭তম আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে তিন লাখ টাকা, আইন বিভাগের কলকাতায় অনুষ্ঠিত মুট-কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দুই লাখ টাকা, ঢাবি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক বনভোজনের জন্য এক লাখ টাকা, মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের জন্য কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার বিভাগকে এক লাখ টাকা, মাস্টার দা সূর্যসেন হলের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
এছাড়া ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সহায়তা হিসেবে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বিএসইসির সিএসআর খাত থেকে।
মানবিক চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিএসইসির কর্মকর্তা কিংবা পরিবারের সদস্য, অন্যান্য ব্যক্তিকেও সিএসআর খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো অর্থ সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি। কমিশনের ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা অর্থ দেওয়া হয়েছে সিএসআর খাত থেকে।
এছাড়া আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, গাজীপুরের শ্রীপুর শিশুপল্লী প্লাস, বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট ও আনসার সদস্যদের ঈদুল আজহায় সহায়তা হয়েছে।
কবরস্থানের উন্নয়নের জন্যও সিএসআর খাত থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জের হোলতাবাড়ী কবরস্থানের জন্য দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। শুধু কবরস্থানই নয়, ওই এলাকায় মসজিদ, ঈদগায়ের নামেও কয়েক লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে হোলতা দফাদার বাড়ী জামে মসজিদের জন্য দুই লাখ টাকা, হোলতা তালুকদার বাড়ী জামে মসজিদের জন্য দুই লাখ টাকা, হোলতাবাড়ী ঈদগাহের জন্য দুই দফায় তিন লাখ টাকা, হোলতা হাজী বাড়ী ঈদগাহ মসজিদ সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা, হাবিবপুর তালিমুল মিল্লাত কওমি মাদরাসা দুই লাখ টাকা, হোলতা সুরত মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। বিএসইসির তৎকালীন কমিশনার আবদুল হালিমের নিজ এলাকা বাকেরগঞ্জে এসব প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। তিনি প্রভাব খাটিয়ে এসব বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বাকেরগঞ্জে তার নিজ এলাকার বলে স্বীকার করেন আব্দুল হালিম। তবে সিএসআর অনুমোদনে নিজের প্রভাবের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আমার দেশকে বলেন, যারা বরাদ্দ পেয়েছে, তারা কমিশনে আবেদন করেছে এবং যাচাই-বাছাই করে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ওই সময় কমিশনে যে-ই আবেদন করেছে, সে-ই বরাদ্দ পেয়েছে। কেউ কম, কেউ বা বেশি। তার এলাকায় যেসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার পরিমাণ খুব বেশি নয়, এটা মাত্র কয়েক লাখ টাকা। কমিশনার হিসেবে নিজের এলাকায় এ ধরনের বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়টি নীতি-নৈতিকতা কিংবা স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসাবে দেখেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কিছু হয়েছে বলে আমি মনে করি না।
বিএসইসির কমিশনার হিসেবে যোগদানের অব্যবহিতপূর্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএসআর করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একেক প্রতিষ্ঠানের একেক নিয়ম রয়েছে। বিএসইসির এ ব্যাপারে বাজেট ছিল এবং তারা সিএসআর খাতে ব্যয় করত।
এছাড়া আরো কয়েকটি মাদরাসা, কবরস্থান, ঈদগা, মসজিদ উন্নয়নেও বিএসইসির সিএসআর খাত থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের উজিরপুরের চাকমান ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসাকে পাঁচ লাখ টাকা, গাজীপুরের বাসাকৈর কবরস্থান উন্নয়নে এক লাখ টাকা, গাজীপুর কেন্দুয়াবাড়ী ফকির বাড়ী জামে মসজিদের জন্য সোয়া লাখ টাকা দেওয়া হয়। রামচন্দ্রপুর স্কুল মসজিদের জন্য দুই দফায় তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। তবে এ স্কুলটি কোন জেলা বা থানায় অবস্থিত সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিএসআর খাতে ব্যয়ের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় করা হয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় সাত কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যয় ছিল দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
সিএসআর খাতে ব্যয়ের বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে জানান, প্রতিটি ব্যয় বিএসইসির কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া সিএসআর খাতে ব্যয় নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে কোনো ধরনের আইন বা নীতিমালা ছাড়া কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করতে পারে না বলে রাজস্ব অডিট (বাণিজ্যিক) অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের নির্দিষ্ট খাত রয়েছে। সে খাতের বাইরে কোনো অর্থ ব্যয় করা যায় না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইনে সিএসআর ব্যয়ের বিধান না থাকে, সেক্ষেত্রে তারা এটা করতে পারে না। যেহেতু বিএসইসির আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই এবং এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালাও নেই, সুতরাং তারা যদি এ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করে, সেটা আইনবহির্ভূত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিলে বিএসইসি চেয়ারম্যান হন ঢাবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল-ইসলাম। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিএসআর খাতে ব্যয়ের কোনো নিয়ম না থাকলেও নিজের খেয়াল-খুশিমতো ব্যয়ের এ খাত তৈরি করেন তিনি। এতে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মানবিক সহায়তা পেয়েছেন। আবার রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালানোর পর ১০ আগস্ট বিএসইসির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করেন শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। শেয়ারবাজারে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, কারসাজি, অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুদকের মামলায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ফলে এ বিষয়ে শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই সময়ে বিএসইসির কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা ঢাবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের কাছে সিএসআর ব্যয় নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘আমি কমিশনার থাকার সময় সিএসআরের কিছু কিছু এজেন্ডা কমিশন সভায় এসেছে। যেহেতু এটা অনেক আগে হয়েছে, ফলে এটার বিস্তারিত কোনো কিছু আমার মনে নেই।’
বিএসইসির সিএসআরের কোনো বিধিবিধান ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হয়তো এ জাতীয় কিছু থাকতে পারে। এ বিষয়টি এখন আমার মনে নেই। সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের সিএসআর কার্যক্রম রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এ কমিশনার বলেন, আমার জানা মতে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্যাদুর্গতদের সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


