মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

নবীজি (সা.)-এর আগমন পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। কেননা তিনি এসেছিলেন বিশ্বজগতের জন্য করুণা হয়ে। হাদিসের আলোকে হাতির বছর, অর্থাৎ যে বছর আবরাহা হাতি নিয়ে কাবাঘর ধ্বংসের জন্য মক্কা আক্রমণ করেছিল, সে বছর নবীজি (সা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সাহাবি কায়েস ইবনে মাখরামা (রা.) বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) দুজনেই ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেছি। (তিরমিজি : ৩৬১৯)

আর তাঁর জন্মবারটি ছিল সোমবার। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন, সোমবারে নবুয়ত লাভ করেন, সোমবারে ইন্তেকাল করেন, সোমবারে মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনার পথে রওনা করেন, সোমবারে মদিনায় পৌঁছান এবং সোমবারেই তিনি হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৫০৬)

বিজ্ঞাপন

নবুয়ত প্রাপ্তির পর এই দিন তিনি রোজা রাখতেন। সাহাবি আবু কাতাদাহ (রা.) বলেন, এ রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমি নবুয়ত লাভ করেছি।’ (মুসলিম ১১৬২)

তিনি এসেছিলেন আমাদের জন্য রহমত বা করুণাস্বরূপ। আর আমাদের জন্য করুণা হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন আল্লাহর শরিয়ত বা ইসলামি জীবনবিধান। তাই আমাদের কর্তব্য, তাঁর আগমনের শুকরিয়া হিসেবে জীবনব্যাপী তাঁর আনীত শরিয়ত প্রতিপালন করা। ওপরের হাদিসটিতে আমরা দেখেছি, তিনি তাঁর জন্মের দিন, অর্থাৎ সোমবারে রোজা রাখতেন। উম্মত তাঁর অনুসরণে সাপ্তাহিকভাবে সোমবারে রোজা রেখে তাঁর আগমনে শুকরিয়া আদায় ও আনন্দ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু এ দিনটিকে বার্ষিক ঈদ বানানোর কোনো শিক্ষা তাঁর আনীত শরিয়তে নেই, বরং এর বিপরীত শিক্ষাই হাদিসে রয়েছে।

প্রথমত, তিনি তাঁর জন্মদিন হিসেবে সাপ্তাহিক সোমবারকে চিহ্নিত করেছেন, বার্ষিক কোনো তারিখকে নয়। দ্বিতীয়ত, জন্মদিনে তিনি রোজা রাখতেন। আর তাঁর শিক্ষায় রোজা ঈদের বিপরীত বিষয়। হাদিস শরিফে এসেছে, উম্মে সালমা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) শনিবার ও রোববারে সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলতেন, এ দুটি দিন মুশরিকদের ঈদ-আনন্দের দিন। তাই এভাবে আমি তাদের বিরোধিতা করতে চাই। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৬১৬)

আমাদের কর্তব্য তাঁর নির্দেশনার আলোকে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজ-প্রচলনের ওপর তাঁর শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া। এটাই তাঁকে ভালোবাসার দাবি।

লেখক : মুহতামিম, দারুস সুন্নাহ একাডেমি, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন