ইয়েমেন নিয়ে সত্য হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

ইয়েমেন নিয়ে সত্য হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী
ছবি: এআই

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় দেড় হাজার বছর আগের একটি প্রসিদ্ধ ভবিষ্যদ্বাণী ও দোয়া। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই হাদিসের বক্তব্য এবং বর্তমান ভূরাজনীতির সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।

প্রায় ১৪০০ বছর আগে আরবের মাটিতে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা.) ইয়েমেন ও শামের জন্য বিশেষ বরকতের দোয়া করেছিলেন। একই সঙ্গে অপর এক অঞ্চল ‘নজদ’ সম্পর্কে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার এক গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সহীহ বুখারির বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের শাম (সিরিয়া ও সন্নিহিত অঞ্চল) এবং ইয়েমেনে বরকত দান করুন।’ সে সময় উপস্থিত সাহাবিরা নজদ অঞ্চলের জন্যও বরকতের দোয়া করার আরজি জানালে নবীজি (সা.) তা এড়িয়ে গিয়ে আবারও শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকত প্রার্থনা করেন। এরপর নজদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা দেখা দেবে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে।’

হাদিসে উল্লেখিত ‘নজদ’ ঠিক কোন ভৌগোলিক এলাকা নির্দেশ করে, তা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের গবেষকদের মতে, বর্তমান সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চল—যেখানে রাজধানী রিয়াদের অবস্থান, সেটিই প্রাচীন নজদ। অপর এক পক্ষের মতে, প্রাচীন ইরাক সীমান্তের উচ্চভূমি অঞ্চলকে নজদ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

তবে আধুনিক সময়ে এসে সেই ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হওয়ার কারণ সৌদি-ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ এই লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইয়েমেন; বিপরীতে হুথিরাও সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে, যা লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। একদিকে নবীজি (সা.)-এর বরকতপূর্ণ দোয়ার অঞ্চল ইয়েমেনের লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ক্ষমতা ও ফিতনার বিস্তার—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে দেড় হাজার বছর আগের সেই ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন