ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বামীর অনুপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোজা রাখতে পারবেন। তবে স্বামী যদি উপস্থিত থাকেন, তবে হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোজা রাখতে পারবেন না।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফিকহ ও হাদিসের মূল বিধানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
স্বামীর উপস্থিতিতে অনুমতি আবশ্যক: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘স্বামী উপস্থিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর জন্য তার অনুমতি ছাড়া নফল রোজা রাখা জায়েজ নয়।’ (বুখারি: ৫১৯৫; মুসলিম: ১০২৬)
হুকুমের পেছনের কারণ: মূলত স্বামীর অধিকার ও তার দাম্পত্য প্রয়োজনের বিষয়টি যেন বিঘ্নিত না হয়, সে জন্যই এই বিধান দেওয়া হয়েছে। যেহেতু নফল ইবাদতের চেয়ে স্বামীর অধিকার রক্ষা করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি নেওয়া আবশ্যক করা হয়েছে।
অনুমতি নেওয়ার বিধান: স্বামী যদি অনুমতি দেন কিংবা এ বিষয়ে আগে থেকেই অনুমতি নেওয়া থাকে, তবে স্ত্রী সাচ্ছন্দ্যে নফল রোজা রাখতে পারবেন।
স্বামীর অনুপস্থিতিতে: স্বামী যদি সফরে থাকেন কিংবা বাড়িতে উপস্থিত না থাকেন, সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর নফল রোজা রাখতে স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
ফরজ রোজার ক্ষেত্রে ভিন্নতা: এটি কেবল নফল রোজা বা অতিরিক্ত রোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রমজান মাসের রোজা কিংবা অন্য কোনো কাজা বা ওয়াজিব রোজার ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন হয় না, কারণ ফরজ ইবাদত পালনে স্বামীর অনুমতি শর্ত নয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


