মানবপাচার রোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান

মানবপাচার রোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান

খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য ইমাম, আলেম ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ইমামরা খুতবা ও ওয়াজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে অনিরাপদ পথে বিদেশযাত্রা এবং মানবপাচারের মারাত্মক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, একজন মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখা মানে পুরো মানবজাতিকে রক্ষা করার সমতুল্য। তাই জুমার খুতবার আলোচ্যসূচিতে অন্যান্য দ্বীনি বিষয়ের পাশাপাশি মানবপাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। দেশে অভিবাসনের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন এবং প্রতিবছর গড়ে ১২ থেকে ১৩ লাখ মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশ যান। তবে তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দালালের প্রলোভনে পড়ে চরম প্রতারণার শিকার হন এবং অবৈধ ও অনিরাপদ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে নিজেদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ঠেলে দেন।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘আমরা চাই না কেউ অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে বা অন্য কোনো বিপজ্জনক উপায়ে বিদেশে যাওয়ার মতো আত্মঘাতী চেষ্টা করে অকালে প্রাণ হারাক। সমাজে ইমাম ও আলেমরা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রভাবশালী স্থানে রয়েছেন। সারা দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করতে পারলে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।’

তিনি আরও জানান, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম গত এক বছরে এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজারের মতো পাচারপ্রবণ চারটি জেলার ৪৯টি মসজিদে ইমামদের খুতবার মাধ্যমে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সচেতন করতে সক্ষম হয়েছে। মানবপাচারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে এই সমন্বিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান, গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান এবং উপসচিব মো. গোলাম কবির। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ইমাম সমিতির মহাসচিব মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার শায়লা শারমিন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন