সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল

সাগরিকার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

সাগরিকার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের শোকাবহ দিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। সোমবার নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে ড্র করলেই চলত তাদের। তবে শেষটা বড় জয়েই রাঙিয়ে দিলেন তারা। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সাগরিকার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ ৪-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতেছে। এ নিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালে কমলাপুরের মাঠে ফাইনালে নেপাল কন্যাদের ৩-০ গোলে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিকরা।

এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ছিল না। ডাবল লিগ পদ্ধতিতে খেলেছে অংশ নেওয়া চারটি দল। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচ খেলে প্রতিটিতে জয় তুলে নিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ পয়েন্ট অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এ টুর্নামেন্টে ভারত না খেলায় শিরোপা জয়ের পথে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নেপাল। তবে দুই ম্যাচেই নেপালকে হারাল বাংলাদেশ। গত ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল নেপালের মেয়েরা। ছয় ম্যাচ খেলে চারটিতে জয় পাওয়ায় ১২ পয়েন্ট অর্জন করে রানার্সআপ হয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরুতেই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুদল। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নেপালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেরেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। তার ফেরাটা হয়েছে দুর্দান্ত। মাঠে নেমেই অসাধারণ পারফরম্যান্স শো করেছেন এই ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশের হয়ে চারটি গোলই করেছেন এই ফুটবলার। নেপালের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে শুধুই সাগরিকার ফুটবল নৈপুণ্যের গল্প।

নেপালের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। গোলের জন্য সাগরিকা, নবিরন, উমেলা ও পূজাকে আক্রমণভাগে রেখে শক্ত একাদশ সাজান কোচ পিটার বাটলার। খেলার শুরু থেকেই মাঠে প্রভাব বিস্তার করে খেলে স্বাগতিকরা। খেলার ৭ মিনিটেই গোলের দেখা পায় তারা। গোছানো আক্রমণ থেকে গোলমুখে স্বপ্না বল বাড়িয়ে দেন সাগরিকার দিকে। তাকে আটকাতে সামনে এগিয়ে আসেন নেপাল গোলরক্ষক সুজাতা; কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। গোলরক্ষককে পেছনে ফেলে ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে দেন সাগরিকা। তার গোলেই প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

অবশ্য ১৮ মিনিটে নেপালের একটি আক্রমণে বাংলাদেশের গোলপোস্টে লেগে বল ফিরে আসে। ২২ মিনিটে মুনকির আক্তারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে আরো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। বিশেষ করে নেপালের রক্ষণভাগের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়ান সাগরিকা। ৫১ ও ৫৮ মিনিটে আরো দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। ৭৭ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৮।

সাগরিকার নামের পাশে আরো গোল যোগ হতে পারত। যদি না প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু গোলের সুযোগ মিস হতো তার। ৭২ মিনিটে বল জালে জড়ালেও অফসাইটের কারণে তার গোলটি বাতিল হয়ে যায়। তবে যেভাবে পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কাটিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল উপহার দিলেন সাগরিকা- তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফুটবলপ্রেমীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন