জয়শূন্য, গোলশূন্য ফুটবল দল

জয়শূন্য, গোলশূন্য ফুটবল দল

তিন ম্যাচ। দুটি বড় হার। শেষ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র। প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও নেই, বিপরীতে নিজেদের জালে ১৬ বার বল জড়িয়েছে। জয় নেই, গোল নেই, পদক নেই। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের হিসাবটা শেষ পর্যন্ত এমনই শূন্যতায় আটকে রইল। মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত একটি জয় দিয়ে জাপান অভিযান শেষ করার যে প্রত্যাশা ছিল, সেটিও পূরণ হলো না। ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে নাগাই স্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ডে শুধু দুটি শূন্য।

শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মিশন সমাপ্ত করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। শেষ ম্যাচে অন্তত একটি জয় তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ ছিল ঋতুপর্ণা চাকমা, তহুরা খাতুনদের সামনে। কিন্তু আক্রমণে ধার না থাকায় সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

বিজ্ঞাপন

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে মিয়ানমার। শক্তিমত্তার বিচারে তাই প্রতিপক্ষ এগিয়ে ছিল। তবু এই ম্যাচটিকেই ঘিরে ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা। কারণ গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর মিয়ানমারের বিপক্ষে জয় পেলেই অন্তত শেষ আটে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনাটি বেঁচে থাকত। ম্যাচের আগে কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দার কথাতেও ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

কিন্তু মাঠে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল না।

শুরু থেকেই বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে ম্যাচে টিকে থাকার। বল দখলের লড়াইয়েও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না তারা। ম্যাচের ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে কিছুটা নিয়ন্ত্রণও ছিল। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণকে আক্রমণে রূপ দেওয়ার জায়গাতেই বারবার আটকে গেছে দল।

পরিসংখ্যানও বলছে সেই গল্প। পুরো ম্যাচে মিয়ানমারের গোলমুখে বাংলাদেশ শট নিতে পেরেছে মাত্র তিনটি। তার একটিও ছিল না লক্ষ্যে। অর্থাৎ গোলরক্ষককে পরীক্ষা নেওয়ার মতো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশের আক্রমণভাগ।

মিয়ানমার অবশ্য তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণ করেছে। বাংলাদেশের গোলমুখে তারা নিয়েছে আটটি শট, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। তবে দুবারই বাংলাদেশের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন রুপনা চাকমা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার দৃঢ়তায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত রুপনার ওই সেভগুলোই গোলশূন্য ড্র ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

অথচ এশিয়ান গেমসে আসার আগে বাংলাদেশের পরিকল্পনায় ছিল ভিন্ন হিসাব। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়া এবং দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শক্তির ব্যবধান মাথায় রেখে একটাই চিন্তা ছিল—যত কম গোল খাওয়া যায়! তারপর মিয়ানমারের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়াই ছিল বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্যে যে পুরো ব্যর্থ দল। প্রথম ম্যাচেই দল নিয়ে পিটার বাটলারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরের ম্যাচগুলোতে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ হজম করেছে সব মিলিয়ে ১৬ গোল। বিপরীতে তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও দিতে পারেনি।

এশিয়ান গেমসে এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। ২০২৩ সালের আসরেও গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবারও দুই হার ও এক ড্র ছিল ফল। তিন ম্যাচে হজম করেছিল মোট ১৫ গোল। এবারও জয়হীন থেকেই ফিরতে হচ্ছে দলকে, তবে এবার গোল হজমের সংখ্যা বেড়েছে একটিতে।

সবচেয়ে বড় হতাশা আক্রমণে। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত একটি গোল করে জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগও কাজে লাগানো যায়নি।

রক্ষণে বড় দলের বিপক্ষে আরো সংগঠিত হওয়া, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে ওঠার পথ তৈরি করা এবং সুযোগ তৈরি হলে তা কাজে লাগানো, সব ক্ষেত্রেই উন্নতির জায়গা স্পষ্ট হয়েছে এই আসরে।

স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমার ০, বাংলাদেশও ০। কিন্তু বাংলাদেশের এশিয়ান গেমসের হিসাবটা আরো বড় এক শূন্যতায় শেষ হলো—তিন ম্যাচে কোনো জয় নেই, কোনো গোল নেই, কোনো পদক নেই।

সম্ভবত কোনো উন্নতিও নেই। চার বছর আগের এশিয়ান গেমসের পরিসংখ্যানকে পাশে রাখলে সেই কঠিন সত্যতাই মিলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...