২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই তুরস্কের ধাক্কা

তারুণ্যের শক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার

তারুণ্যের শক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়

২০০২ বিশ্বকাপের সেই রূপকথার গল্প মনে আছে? সেবার সবাইকে চমকে দিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল তুরস্ক। তবে এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪টি বছর, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে আর দেখা মেলেনি তাদের। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার নিয়ে বড় স্বপ্ন বুকে লালন করে বিশ্বমঞ্চে ফিরল তারা। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা মোটেও সুখের হলো না। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তুর্কিদের।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল নায়ক একজন নন, বরং একাধিক ফুটবলার। নেস্তুরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ গোল করে স্পটলাইট কেড়ে নিলেও, নেপথ্যের সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। পুরো ম্যাচে তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দেন তিনি।

ম্যাচের শুরুর আগেই বড় এক চমক দেন অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ টনি পপোভিচ। অভিজ্ঞ ও নিয়মিত অধিনায়ক-গোলকিপার ম্যাথু রায়ানকে বেঞ্চে বসিয়ে প্রথম একাদশের গ্লাভস তুলে দেন তরুণ বিচের হাতে। শুধু তাই নয়, সহ-অধিনায়ক জ্যাকসন আরভাইনকেও শুরুর একাদশে রাখেননি তিনি। তার জায়গায় মাঠে নামান ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পল ওকন-ওকন–ইংস্টলারকে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার শুরুর একাদশের ১১ জনের মধ্যে ১০ জনই ছিলেন বিশ্বকাপ অভিষিক্ত ফুটবলার। ম্যাচ শেষে পপোভিচের এই সাহসী সিদ্ধান্ত শতভাগ সফল প্রমাণিত হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিবারই তাদের এবং গোলের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান বিচ। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের তুর্কি তারকা আর্দা গুলেরের একটি জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন তিনি। এটিই ছিল প্রথমার্ধে বিচের সেরা সেভগুলোর একটি।

তুরস্ক যখন আক্রমণের পর আক্রমণ করে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়া। ২৮তম মিনিটে মিডফিল্ডার ওকন-ওকন–ইংস্টলারের একটি নিখুঁত দীর্ঘ পাস ধরে তুরস্কের রক্ষণভাগ ভেঙে দারুণ গতিতে এগিয়ে যান নেস্তুরি ইরানকুন্ডা। অত্যন্ত শান্ত মাথায় ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ৫৭ মিনিটে আর্দা গুলেরের একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বিচ। তুরস্ক যতই গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠছিল, অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ততই দৃঢ় হয়ে উঠছিল।

অবশেষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে তুরস্কের ফেরার সব আশা শেষ করে দেয় সকারুজরা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় সামনে এগিয়ে যান কনর মেটকাফ। বক্সের বেশ দূর থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট তুরস্কের জাল কাঁপিয়ে দিলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

বাকি সময়ে তুরস্ক আর কোনো গোল করতে না পারায় হারের তেতো স্বাদ হজম করেই মাঠ ছাড়তে হয় ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটিকে। এই জয়ে গ্রুপ ‘ডি’ তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সমান অবস্থানে চলে এলো অস্ট্রেলিয়া। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুদল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...