লম্বা অফ সিজন কাটানোর পর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেটাররা। আগামী মাস থেকে শুরু হবে ঘরোয়া ক্রিকেটের তুমুল ব্যস্ততা। এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পর এনসিএল প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল, বিসিএলসহ টানা বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলবেন ক্রিকেটাররা। ব্যস্ত সূচিতে ঢোকার আগে নিজ নিজ বিভাগীয় দলের হয়ে ফিটনেস ক্যাম্প শুরু করেছেন বেশির ভাগ ক্রিকেটার। এনসিএলের ৮ বিভাগীয় দলের মধ্যে বরিশাল ছাড়া সব দলই শুরু করেছে অনুশীলন। আজ থেকে নিজ বিভাগীয় শহরে অনুশীলন শুরু করবে বরিশাল।
ঢাকা ও ঢাকা মেট্রো দল ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেছে দুই দল। আপাতত স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচের অধীনে ফিটনেস অনুশীলনে মনোযোগী এই দুই দল। অন্য বিভাগীয় দলগুলো অনুশীলন করছে নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে। প্রতিটি বিভাগের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। এই ক্রিকেটারদের নিয়েই বিভাগীয় দলগুলোর ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে ক্রিকেটারদের এই ফিটনেস ক্যাম্প এবং আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ফিটনেস টেস্ট দিবেন ক্রিকেটাররা। বিসিবির নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে পারলে তবেই এনসিএল ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। এ কারণেই এবার এনসিএলের আগে হবে কঠোর ফিটনেস অনুশীলন।
এনসিএলের দলগুলোর ফিটনেস ক্যাম্পে অবশ্য থাকছেন না স্কোয়াডে থাকা সব ক্রিকেটার। ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব ১৯ দল, এইচপি ক্যাম্প ও জাতীয় দলের অধীনে থাকা ক্রিকেটাররা ফিটনেস ক্যাম্পে থাকবেন না। তারা সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন স্কোয়াডে ডাক পেলে ম্যাচের আগে। বিসিবির অধীনে থাকা এই ক্রিকেটাররা ইতোমধ্যে দিয়েছেন নিজেদের ফিটনেস টেস্ট। সে কারণেই তাদের দেওয়া হচ্ছে সরাসরি ম্যাচ খেলার সুযোগ। বিসিবির অধীনে থাকা এই ক্রিকেটাররা পর্যাপ্ত সুযোগ পেলেও বিভাগীয় দলের সঙ্গে থাকা বেশির ভাগ ক্রিকেটারদের জন্য নেই তেমন সুযোগ। আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থাকার সুবাদে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভালোভাবেই অনুশীলনের সুযোগ পাবে এই দুই বিভাগীয় দল।
মাঠ সংকট ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাকি ৬ বিভাগীয় দলের প্রস্তুতি কেমন হবে- তা নিয়ে জেগেছে প্রশ্ন। বরিশালে মাঠ সংস্কারের জন্য লম্বা সময় ধরে বন্ধ স্টেডিয়াম। স্কিল অনুশীলন তো দূরে থাক, সামান্য ফিটনেস অনুশীলন করার সুযোগ নেই। একটি মাত্র ইনডোরে খানিকটা স্কিল অনুশীলনের সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে খুলনার অবস্থাও প্রায় একই। মাঠে অনুশীলনের সুযোগ থাকলেও ফিটনেস অনুশীলন, জিম কিংবা ইনডোরে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই সেখানে। বরিশালের মতো খুলনা বিভাগীয় দলের সঙ্গে থাকা ক্রিকেটারদের অনুশীলন কতটা কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন ওঠা সময়ের ব্যাপারমাত্র।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক দুই দল- ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা বিভাগ। মিরপুরের একাডেমি মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পাবে এই দুই দল। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইংল্যান্ড সফর ও জাতীয় দলের এশিয়া কাপ প্রস্তুতি একই সঙ্গে মিরপুরে হওয়ায় এই দুই দলও কতটা প্রস্তুত হতে পারে সেটা নিয়েও আছে প্রশ্ন। রাজশাহীতে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হবে এইচপি দলের ক্যাম্প। একই সময়ে এই ভেন্যুতে এনসিএলের জন্য প্রস্তুত হবে রাজশাহী বিভাগীয় দল। একই সঙ্গে দুই দলের অনুশীলন থাকায় রাজশাহী দলের প্রস্তুতি কতটুকু কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। অন্য ছয় বিভাগীয় দলের মতো রংপুরও অনুশীলন শুরু করেছে নিজ বিভাগীয় শহরে। স্বল্প সুযোগ-সুবিধার মধ্যে তারাও নিজেদের প্রস্তুত করছে এনসিএলের শিরোপা লড়াইয়ের জন্য।
একেক শহরে একেক সমস্যার মধ্যে এনসিএলের দলগুলোর এই প্রস্তুতিতে ক্রিকেটাররা নিজেদের কতটুকু প্রস্তুত করে মাঠে নামতে পারেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

