স্কোয়াডে আছেন, একাদশে থাকবেন কী মিরাজ

স্কোয়াডে আছেন, একাদশে থাকবেন কী মিরাজ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ট্রফি জয়ের ম্যাচে একাদশে ছিলেন না মেহেদি হাসান মিরাজ। সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে সফল হওয়ার পরও উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় তাকে খেলায়নি বাংলাদেশ। মিরাজের বদলি নেমে ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ছিলেন শেখ মাহেদি। সিরিজ জয়ের পর অধিনায়ক লিটন দাস জানান, বোলিং সহায়ক উইকেটে মাহেদিই হবেন তার প্রথম পছন্দ। আরও জানান, তার ধারণা মিরপুরে থাকবে স্পিনারদের দাপট। অধিনায়কের এসব কথায় প্রশ্ন জাগে- মিরাজ কী তাহলে আগামীকালের ম্যাচে সাইডবেঞ্চে থাকবেন? ও- বলে রাখা ভালো আগামীকাল থেকে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর থেকে মিরপুরে মাত্র ৪ ম্যাচ খেলেছেন মিরাজ। এ সময়ে ব্যাট কিংবা বল- কোন দিক থেকেই সফল হননি। ব্যাট হাতে ৩৯ রানের পাশাপাশি শিকার করেন ৫ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই মিরপুরে। বিপরীতে অবশ্য চার ম্যাচের দুটিতেই ছিলেন উইকেটশূন্য। এমন অতীত পরিসংখ্যানে হয়তো তাকে খেলতে দ্বিধাবোধ করবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিজ্ঞাপন

তবে এখানে আছে কিছুটা যদি-কিন্তু। শ্রীলঙ্কা সিরিজে তিন ম্যাচেই বাংলাদেশ একাদশে ছিল তিন পেসার। উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় মিরপুরে হয়তো তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নিবে না টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ- মিরপুরে যে থাকে স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা। এই চিন্তা থেকে হয়তো একাদশে পেসার সংখ্যা কমানোতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে বাড়তি স্পিনার হিসেবে মিরাজের সুযোগ মিলতে পারে। তবে সেখানে মিরাজের ভূমিকাটা যত না স্পিনার তার চেয়ে বেশি হবে অলরাউন্ডার।

তিন স্পিনার নীতিতে এগোলে মিরাজের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন নাসুম আহমেদ। মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে সব সময়ই কার্যকর থাকা নাসুম শ্রীলঙ্কায় খেলেননি কোন ম্যাচ। মিরপুরে খেলা ১৪ ম্যাচে তার শিকার ২০ উইকেট। ইকোনমি ৫.১৭ এর সঙ্গে বোলিং গড় ১১.৫৫। মিরপুরে এই দারুণ পরিসংখ্যানই তাকে এগিয়ে রাখছে মিরাজের চেয়ে।

একটি দারুণ পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। প্রায় ১৪ মাস পর মিরপুরে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর নয় মাস পর মিরপুরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিল। লম্বা এই আন্তর্জাতিক বিরতির মাঝে মিরপুরে বিপিএল ও ডিপিএল ছাড়া খুব একটা ম্যাচ হয়নি। ফলে- একদম নতুন উইকেটে খেলার সুযোগ হচ্ছে বাংলাদেশ।

এমন উইকেট বিবেচনায় একাদশে তিন পেসার খেলানোর মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রেও মিরাজের জন্য একাদশে সুযোগ পাওয়ার পথটা একরকম রুদ্ধই বলা যায়। মিরাজের জন্য একাদশে সুযোগ পাওয়ার পথটা যখন কঠিন, তখন বাংলাদেশ ওপেনিং নিয়ে ভুগতে পারে মধুর সমস্যায়। তানজিদ তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নাঈম শেখের সুযোগ মিলতে পারে। কারণ- শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের দুটিতে ‘ডাক’ মেরেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। এই পারফরম্যান্সের কারণেই ইমনের জায়গায় নাঈমের সুযোগ মিলতে পারে। এছাড়া একাদশে আর কোনো পরিবর্তন আসার সুযোগ খুবই কম।

শেষ পর্যন্ত কেমন একাদশ নিয়ে মাঠে নামে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন