প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নাসের আল খেলাইফি স্বপ্ন বুনছিলেন, ইউরোপের সেরা হবেন। লক্ষ্য পূরণে কোটি কোটি ইউরোও খরচ করেছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে স্বপ্ন পূরণের পর এবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে তার ক্লাব পিএসজি। প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার ট্রফি, সঙ্গে লিগ ওয়ান ও কোপা ডি ফ্রান্স; ট্রেবল জয়ের পর তাদের সামনে এবার ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপার হাতছানি। তাদের প্রতিপক্ষ চেলসি তাকিয়ে রেকর্ডের পানে, একমাত্র ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপের ‘ডাবল’ জয়ের লক্ষ্যে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘দ্য ব্লুজ’দের মুখোমুখি হবে ‘দ্য প্যারিসিয়ানস’ খ্যাত পিএসজি।
৩২ দলের লড়াইয়ে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে নকআউটে পা রাখে চেলসি। নকআউটে বেনফিকাকে ৪-১ গোলে ও কোয়ার্টারে পালমেইরাসকে ২-১ গোলে ও সেমিফাইনালে ফ্লুমিনেন্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের মঞ্চে ওঠে। পিএসজি ‘বি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ষোলোতে পা রাখে। শেষ ষোলোতে ইন্টার মিয়ামিকে ৪-০ গোলে ও কোয়ার্টারে বায়ার্ন মিউনিখকে ২-০ গোলে পরাজিত করে। সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-০ গোলে হারিয়ে পা রাখে ফাইনালে।
ফাইনালের মঞ্চে পিএসজিকে এগিয়ে রাখতে হবে। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর থেকেই তারা উড়ছে আপন গতিতে। নকআউটে তিন দলের জালে ১০ গোল দিয়ে সেই ধারণা আরো জোরালো করল তারা। ফাইনালে পিএসজির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজের দিকে নজর রাখতে হবে। আসরে সর্বোচ্চ ৩ গোল করেছেন রুইজ। চেলসির হয়ে বাজিমাত করতে পারেন পেদ্রো নেতো। পর্তুগিজ উইঙ্গারও তিন গোল করেছেন। নজরে আছেন উসমানে দেম্বেলে ও জোয়াও পেদ্রো।
ফাইনালে পিএসজির লক্ষ্য ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়াড্রপল জয়। কোচ এনরিকে সেটাই জানালেন, ‘মৌসুমটা আমাদের জন্য বিশেষ, আরেকটি বিশেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় আছি, আর মাত্র এক ধাপ দূরে। এটা প্রস্তুতির সময়। আমরা ইতিহাস রচনা করতে চাই।’ চেলসির লক্ষ্য দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ২০২১ সালে পালমেইরাসকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারলে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে দুটি শিরোপার মালিক হবে তারা। চেলসির ম্যানেজার এনজো মারেস্কার ভাষ্য, ‘এটা একটি চমৎকার অর্জনের মৌসুম; প্রিমিয়ার লিগে সেরা চারে থাকা, কনফারেন্স লিগে জেতা এবং ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা।’
এ নিয়ে নবমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই জায়ান্ট। এর আগে ২০১৪-১৬ মৌসুমে সর্বোচ্চ ছয়বার এই দুই দল একে অন্যকে মোকাবিলা করেছিল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই দলের লড়াইয়ে পিএসজি এগিয়ে। আগের ৮ ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ৩ ম্যাচ, বিপরীতে পিএসজির জয় ২ ম্যাচে, ড্র হয়েছে তিন ম্যাচ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

