যেন আনবিট্যাবল এক প্রতিপক্ষ ছিল আল-হিলাল। আল-নাসরের বেলায় কথাটা দারুণ খাটত। দুর্ভাগ্যটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, আল-হিলালের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ধরেই নেওয়া যেত- জয়ের দেখা পাচ্ছে না আল-নাসর। ক্লাবটির বিপক্ষে জয়ের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে। সৌদি প্রো লিগে ৭ ম্যাচ আর সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ১০ ম্যাচ ধরে জয়বঞ্চিত আল-নাসর। অবশেষে সৌদি আরবের ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইয়ে কাটল সেই জয় খরা।
রিয়াদ ডার্বিতে শুক্রবার রাতে কিংডম অ্যারেনায় জয় নামক সোনার হরিণের সন্ধান পেয়েছে কোচ স্তেফানো পিওলির দল। সে আবার আল-হিলালের ঘরের মাঠে। এক সময়ের অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ডাবল গোলের ম্যাজিকে। পর্তুগিজ মহাতারকার নৈপুণ্যে লিগে আল-হিলালকে ৩-১ গোলে ধরাশায়ী করেছে আল-নাসর। রোনালদো যুগে ‘ক্যাপিটাল ডার্বি’তে এই প্রথম জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মধুর স্বাদ পেল আল-নাসর। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ আল-হিলালের জালে দুবার বল জড়িয়ে ম্যাচের নায়কও রোনালদোই।
মাঠের লড়াই জমে উঠলেও গোলের দেখা যেন কিছুতেই মিলছিল না। আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণ রচনা করেও কোনো দলই যেন ভাঙতে পারছিল ম্যাচের ডেডলক। প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতার দিকেই এগোতে থাকে। তবে সৌভাগ্যক্রমে তেমনটা হয়নি। ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে যায় প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। ৪৫ মিনিটের সঙ্গে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ম্যাচের নীরবতা ভেঙে ফেলে আল-নাসর। বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো বাঁকানো শটে প্রতিপক্ষ আল-হিলালের জাল কাঁপান মাঝ মাঠের খেলোয়াড় আলি আল-হাসান।
প্রথমার্ধে একটা গোলের হাপিত্যেশ করতে হলেও বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। আরেকটি গোল ধরা দেয় খুব দ্রুতই। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে আক্রমণ শানানোর ফল পেয়ে যায় আল-নাসর। বক্সের ভেতরে সাদিও মানের বল ঠেলে দিতেই রোনালদো আর দেরি করেননি। হুট করে নেওয়া বাঁ পায়ের ক্ষিপ্রগতির চমৎকার শটে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ এ নিয়ে যান সিআর সেভেন।
পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে প্রত্যাবর্তনের সব রকম চেষ্টাই করতে থাকে স্বাগতিক আল-হিলাল। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টার ফলও পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৬২ মিনিটে খুঁজে সান্ত্বনার একটি গোল। তাতে লাভ হয়নি। আর কোনো গোল পায়নি আল-হিলাল। উল্টো ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগে গোল হজম করে বসে। ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নির্ভুল নিশানায় নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আল-নাসরের প্রাণভোমরা রোনালদো। তার ফুটবল ঝলকে দলের জয়ের ব্যবধানও যায় বেড়ে।
এ ম্যাচের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে সৌদি প্রো লিগে সুপারস্টার রোনালদোর গোল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭০। তার মানে হাজার গোলের লক্ষ্য ছোঁয়ার দিকে আরো দুই ধাপ এগোলেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১২৭২ ম্যাচে সব মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩১-এ। ১০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছতে পর্তুগিজ কিংবদন্তির দরকার আরো ৬৯ গোল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানোর পর আল-নাসরের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ১০৪ ম্যাচে রোনালদো পেয়েছেন ৯৪ গোল।
লড়াই শেষে ৪০ বছরের এ মেগাস্টার বলেন, দলের জয়ই তার কাছে সবার আগে। ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ‘এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল দলীয় প্রচেষ্টার। আমার গোল করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ দলের জয়। সৌদি প্রো লিগে ও (এএফসি) চ্যাম্পিয়নস লিগে দলকে সহায়তা করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি, ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে ভাবি না।’
সৌদির জায়ান্ট ক্লাবটিতে প্রতি ম্যাচে রোনালদোর গোল গড় ০.৯০। এই হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে, সহস্র গোলের কীর্তি গড়তে রোনালদোকে আরো ৭৯ ম্যাচ খেলতে হতে পারে। সময় লাগতে পারে আরো প্রায় দেড় থেকে দুই বছর। এই হিসাব কষতে নেওয়া হচ্ছে গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা। তেমন হিসাব কষে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মাইলফলকটিতে পা রাখার আনন্দে ভাসতে পারেন রোনালদো।
সৌদি প্রো লিগে দুদলের আগের ৭ ম্যাচে আল-হিলাল জয়ের হাসি হেসেছে চার ম্যাচে। বাকি তিন ম্যাচ ছিল অমীমাংসিত। এ ম্যাচ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলেও আল-নাসর অবশ্য পয়েন্ট তালিকার তিনে পড়ে রয়েছে আল-নাসর। ২৬ ম্যাচ খেলে তাদের পুঁজি ৫৪ পয়েন্ট। তিন পয়েন্টে এগিয়ে থেকে দুইয়ে অবস্থান করছে নেইমারের সাবেক ক্লাব আল-হিলাল। পয়েন্ট তালিকায় রাজত্ব করে যাচ্ছে এখন আল-ইত্তিহাদ। তাদের সংগ্রহ ৫১ পয়েন্ট।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

