আরব আমিরাতের বিপক্ষে এলোমেলো পারফরম্যান্স করে সিরিজ হার। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইনজুরি। তাতে অবস্থা আরো নাজেহাল। সব মিলিয়ে ‘দিশাহারা’ বাংলাদেশ। এই দল নিয়েই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শক্তিশালী পাকিস্তানের মুখোমুখি যাচ্ছে লিটন দাসের দল। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ৯টায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের সারথিরা।
শুরুতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সীমান্তে অস্থিরতায় পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) স্থগিত হলে সিরিজ আয়োজন নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নিরাপত্তার অজুহাতে দেশটিতে সফর নিয়ে দ্বিধায় ভুগছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। অনেক আলাপ-আলোচনা, উৎকণ্ঠার পর সূচি পরিবর্তন করে তিন ম্যাচে নামিয়ে আনা হয় সিরিজ। দুই ভেন্যু থেকে কমিয়ে মাত্র এক ভেন্যুতেই তিন ম্যাচের এই সিরিজ খেলা পুনঃনির্ধারিত হয়।
পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ সব সময়ই দুই দেশের সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে দুই দেশের মধ্যকার লড়াইয়ে পরিসংখ্যান বিবেচনায় যোজন যোজন এগিয়ে ‘ম্যান ইন গ্রিন’রা।
২০ ওভারের ম্যাচে দুই দল খুব বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কিংবা ম্যাচ খেলেনি। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তাতে পাকিস্তানের ১৬ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩ ম্যাচে। তবে সাম্প্রতিক দেখায় বাংলাদেশই এগিয়ে। দুই দলের সবশেষ দেখায় পাকিস্তানকে বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে চীনের হ্যাংজুতে এশিয়ান গেমসে ওই ম্যাচের পর আর দেখা হয়নি দুই দলের। পরিসংখ্যানের হিসাবে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও সবশেষ ম্যাচের হিসাবে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।
টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের প্রথম দেখা ২০০৭ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে চারজাতি টুর্নামেন্টে। সেই ম্যাচে ৩০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের লড়াইয়ের বেশির ভাগই হয়েছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে আটবারই জিতেছে পাকিস্তান। ঘরের মাঠে কিংবা বাইরেও জয়ের দিক দিয়ে এগিয়ে তারা। বাংলাদেশে এসে খেলা ৫ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে তারা। সব মিলিয়ে পাল্লা পাকিস্তানের দিকেই বেশি ভারী।
এই সফরে বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছিল তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে। তবে অভিজ্ঞতাদের মধ্যে সৌম্য সরকার পিঠের চোটে এবং মোস্তাফিজুর ছিটকে গেছেন আঙুলে চোট পাওয়ার কারণে। ফলে এখন অনেকটাই তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা। বাংলাদেশের শক্তির জায়গা দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ও তানজিদ হাসান তামিম। সবশেষ আরব আমিরাত সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন এ দুজন। বাকিদের নিয়ে আশা করাই যেন নিরাশা।
বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। তাওহিদ হৃদয়ও চেনা ছন্দে নেই। শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাটেও চিরচেনা সেই দুরন্ত সুইংয়ের দেখা নেই। ব্যাটিং বিভাগের এই দুশ্চিন্তার মাঝে আরেক চিন্তার নাম ফিল্ডিং। আরব আমিরাত সিরিজের ভুলে ভরা ফিল্ডিং শুধরাতে না পারলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাশুল গুনতে হবে, সেটা অনুমেয়।
বোলিং নিয়েও চিন্তা থাকছে অধিনায়ক লিটনের। দলের মূল পেসার মোস্তাফিজুর এবং উদীয়মান তারকা নাহিদ রানা না থাকায় কারণে ভুগতে হতে পারে। পাকিস্তানের উইকেট বোলিং সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেখানে পুরো শক্তি না পেলে বোলিং লাইনআপকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে। তবুও শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, হাসান মাহমুদ এবং রিশাদ হোসেনদের ওপর আস্থা রাখতেই হবে।
শক্তিমত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে পাকিস্তান। শাহিন আফ্রিদি কিংবা বাবর আজমদের মতো তারকা না থাকলেও পিএসএলের সেরা পারফরমারদের নিয়েই দল সাজিয়েছেন নির্বাচকরা। ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, নাসিম শাহ, হারিস রউফ, ফাহিম আশরাফ, শাদাব খানদের নিয়ে তিন বিভাগেই ব্যালেন্স দল পাকিস্তানের। ঘরের মাঠের সুবিধাও তারা পাবেন। এমন দলের সঙ্গে লড়াই করতে হলে সেরাটাই দিতে হবে বাংলাদেশকে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয় তুলে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই অপেক্ষা ঘুচানোর পালা। লিটন দাসরা ইতিহাস পাল্টে ফিরতে পারেন নাকি আরেকবার হতাশা সঙ্গী হয়, সেটাই এখন দেখার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

