শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল অসম্ভব মনে হওয়া ৪৬ রান। হাতে মাত্র চার উইকেট। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। তিলক ভার্মার অপরাজিত অর্ধশতক এবং নীতিশ কুমার রেড্ডির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী ভারত। এক বল হাতে রেখে পাওয়া রোমাঞ্চকর এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারতীয় দল।
ক্রাইস্টচার্চে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করেছিল স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই কিউই বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ভারত। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের বিধ্বংসী ঘূর্ণিতে ১১২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল ভারতের।
সঞ্জু স্যামসন, বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আইয়াররা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে নামান ধীর একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু তিনিও বিদায় নিলে ভারতের জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। তখন শেষ ৩ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪৬ রান। সেখান থেকে তিলক ভার্মা ও নীতিশ কুমার রেড্ডি অবিচ্ছিন্ন থেকে ৬৯* রানের এক মহাকাব্যিক জুটি গড়ে ১৯.৫ ওভারেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। তিলক ভার্মা মাত্র ২৬ বলে বিধ্বংসী ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল তার দুর্দান্ত সব শট।
এর আগে হ্যাগলি ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমার ও প্রিন্স যাদবের পেস আক্রমণে ৪১ রানে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। পাওয়ারপ্লের পর সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১১৬ রানের এক দারুণ জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন এবং জ্যাকবস করেন ৪৬ বলে ৫৮ রান। শেষ দিকে মাইকেল ব্রেসওয়েলের ছোট কিন্তু কার্যকরী ঝড়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৮০ রানে পৌঁছায়। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং ৩৩ রান খরচ করে দুটি উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড : ১৮০/৫, ২০ ওভার (ফিলিপস ৭০, জ্যাকবস ৫৮; আর্শদীপ ২/৩৩)।
ভারত : ১৮১/৬, ১৯.৫ ওভার (তিলক ৫১*, নীতিশ ২৬*; স্যান্টনার ৪/২১)।
ফল : ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : তিলক ভার্মা।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

