‘রেকর্ডম্যান’ ব্রিটজকে

‘রেকর্ডম্যান’ ব্রিটজকে

ক্রিকেট দুনিয়ায় নিত্যনতুন রেকর্ড হচ্ছেই। রেকর্ডের মালা গলায় পরে সমগ্র ভারতে ঈশ্বরের জায়গা দখল করে আছেন শচীন টেন্ডুলকার। ক্রিকেট অভিধানে রেকর্ডের অধ্যায়জুড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জয়জয়কার। বাইশগজের রেকর্ডের এই লড়াইয়ে অনেক তারকা, মহাতারকা ও কিংবদন্তি চমকে দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন। তাদের ভিড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথু ব্রিটজকে যেন ধূমকেতুর মতোই উদয় হয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন বিরল কীর্তিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটকিপার-ব্যাটার এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন চারটি, প্রতিটি ম্যাচেই কোনো না কোনো রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে বনে গেছেন ‘রেকর্ডম্যান’।

ক্রিকেটের মহারণে কোন তারকা কতদূর যাবেন, সেটার একটা ইঙ্গিত শুরুতেই পাওয়া যায়। ক্রিকেটের বিশাল আকাশে নক্ষত্ররা একদিনেই আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে না। ব্রিটজকেও যে রেকর্ডম্যান হয়ে উঠবেন, সেটার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল তার ওয়ানডে অভিষেকেই। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের লাহোরে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন ব্রিটজকে। ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অভিষেকে এটিই সর্বোচ্চ ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেসমন্ড হেইন্সের ৪৭ বছরের রেকর্ডে কেড়ে নেন ২৬ বছর বয়সি ব্রিটজকে। ১৯৭৮ সালে ওয়ানডে অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪৮ রান করেছিলেন কিংবদন্তি ক্যারিবীয় ওপেনার।

বিজ্ঞাপন

ওই সিরিজেই দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৩ রান করে হেইন্সের আরেকটি রেকর্ড ভাঙেন ব্রিটজকে। দুই ম্যাচ শেষে ব্রিটজকের রান দাঁড়ায় ২৩৩, তাতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ইনিংসে ২০০ রান করা প্রথম ব্যাটারের রেকর্ড দখল করেন প্রোটিয়া তারকা। হেইন্স ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ইনিংসে করেছিলেন ১৯৫ রান। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন ২৬ বছর বয়সি তারকা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৮ রানের ইনিংস খেলে এই ফরম্যাটের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম চার ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার নজির গড়েন ব্রিটজকে। সেই সঙ্গে প্রথম চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৮ রানের রেকর্ড গড়ে পেছনে ফেলেন সতীর্থ টেম্বা বাভুমাকে (২৮০ রান)।

ব্রিটজকের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মাত্র ১৪ বছর বয়সে। ওই বয়সেই গ্রে হাই স্কুলের প্রথম সারির দলে জায়গা করে নিয়ে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। ২৫ যুব ওয়ানডেতে ১ হাজার রান করে প্রোটিয়াদের হয়ে ২০১৮ সালের যুব বিশ্বকাপে সুযোগ পান ব্রিটজকে। সেই আসরে দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন। পরের বছরেই ইমার্জিং দলের হয়ে সুযোগ পান শ্রীলঙ্কা সফরে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ব্রিটজকে। ২০২২-২৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন, ৬০.৫৮ গড়ে তিনটি শতকের সঙ্গে হাঁকান চারটি ফিফটি। ২০২৪ সালের এসএ টোয়েন্টিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি।

চাপ সামলে খেলার জন্য সুনাম আছে ব্রিটজকের। তার বিষয়ে বলতে গিয়ে জাতীয় দলের সতীর্থ ও এসএ টোয়েন্টির ডারবান সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক কেশভ মহারাজের মন্তব্য, ‘বিরাট কোহলির মতো একই মন-মানসিকতার বাস্তব চরিত্র।’ কোহলি রেকর্ডের মহারাজা বনে গেছেন আগেই, এবার সেই পথেই এগোচ্ছেন নতুন রেকর্ডম্যান ব্রিটজকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন