ইমরুল কায়েসের প্রশ্ন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির পথটা আসলে কোথায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির পথটা আসলে কোথায়?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স ও সাম্প্রতিক দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে মর্মাহত হয়ে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি তুলে ধরে নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ চলাকালীন দল নির্বাচন ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমরুল বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দলের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে হয়েছে, আমরা যেন আবার সেই ২০০৬–২০০৮ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জায়গাতেই ফিরে গেছি। এত বছর পরও যদি আমাদের একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে আমাদের উন্নতির পথটা আসলে কোথায়?'

অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের কাছে বাংলাদেশকে নিয়ে কটূক্তি বা অসৌজন্যমূলক বক্তব্য শোনার অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত কষ্টদায়ক উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশ যখন আফগানিস্তানের মতো দলের কাছে হেরে যায় এবং প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররা আমাদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করার সুযোগ পায়, তখন খুব কষ্ট হয়। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার আবেগ, আত্মসম্মান ও জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।'

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক এই ওপেনার স্বীকার করেন যে বড় তারকাখ্যাতি বা অসামান্য কোনো অর্জন হয়তো তার নেই, তবে তিনি নির্দ্বিধায় দেশের জন্য সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আফসোস করে কায়েস লেখেন, 'মাঝেমধ্যে মনে হয়, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মতো যদি আমরাও আরও বেশি স্বাধীনতা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিজেদের মেলে ধরার পরিবেশ পেতাম, তাহলে হয়তো আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারও অন্য রকম হতে পারত।'

বাংলাদেশ দল দীর্ঘমেয়াদে সফল না হওয়ার পেছনে নির্বাচক ও নীতি-নির্ধারকদের মানসিকতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ইমরুল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের পর থেকে বিসিবি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য সঠিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতে ব্যর্থ হয়েছে। কায়েসের মতে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, ইগো ও তাৎক্ষণিক ফলাফলের প্রভাবই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি।

'বিশ্বকাপের মাত্র এক মাস আগে নতুন কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স আশা করা কতটা বাস্তবসম্মত?' —এমন প্রশ্ন তুলে তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের জন্য অন্তত চার বছর আগে থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজাতে হয়। ঘন ঘন দল পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-পরীক্ষা এবং ইগোর লড়াই বন্ধ না হলে বিশ্বমানের দল গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ সালের সফল দলটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন দলটির খেলোয়াড়দের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া, আস্থা ও পারিবারিক বন্ধন গড়ে উঠেছিল, যা বারবার খেলোয়াড় অদলবদল করলে বিনষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নির্বাচক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে ইমরুল কায়েস লেখেন, 'ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, মতের পার্থক্য কিংবা ইগোর ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থকে সবার আগে রাখুন। কারণ কোনো ব্যক্তি বা পদ স্থায়ী নয়, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাদের সবার। আমরা চাই একটি শক্তিশালী দল গড়ে উঠুক, যারা বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিয়ত নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে এবং বাংলাদেশকে গর্বিত করবে।'

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন