সতীর্থদের সঙ্গে এবার ইবাদতের লড়াই

সতীর্থদের সঙ্গে এবার ইবাদতের লড়াই

২০২৩ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে চলাকালে ইনজুরিতে পড়েন পেসার ইবাদত হোসেন। উড়ন্ত ফর্মে থাকা ইবাদতের ওই ইনজুরি বাংলাদেশ দলের জন্য ধাক্কা হয়ে আসে। ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়া ইবাদত মাঠের বাইরে ছিলেন এক বছরের বেশি সময়। ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে এনসিএল দিয়ে মাঠে ফেরা এখন পর্যন্ত সব ফরম্যাট মিলিয়ে খেলেছেন ১৫ ম্যাচ। এ সময়ে তার শিকার ছিল ২১ উইকেট। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ইবাদতের এই পারফরম্যান্সকে মানানসই হিসেবে বিবেচনা করাই যায়। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই পেসার আপাতত আছেন জাতীয় দলের বাইরে। তার নাম নেই বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও। তবে তার নাম আছে বিসিবির প্রথম শ্রেণির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকায়।

গত বছরের অক্টোবরে এনসিএলের লাল বলের টুর্নামেন্ট দিয়ে মাঠে ফেরেন ইবাদত হোসেন। খেলেন দুই ম্যাচ। সেখানে তার শিকার ছিল মোটে ৪ উইকেট। পরে সিলেটের হয়ে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচে ৫ উইকেট ও বিপিএলে ফরচুন বরিশালের জার্সিতে ৫ ম্যাচে তার শিকার ছিল ৪ উইকেট। চলমান ডিপিএলে মোহামেডানের জার্সিতে তিন ম্যাচে তার শিকার ৩ উইকেট। উইকেট সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে থাকলেও ইবাদত বাজিমাত করছেন ইকোনমিতে। মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রান আটকানোর কাজটা ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভালোভাবেই করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইনজুরির পর ইবাদতকে মাঠে ফেরাতে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল বিসিবি। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর মাঠে ফেরা এই ক্রিকেটারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়নি তারা। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কোনো সুযোগ নেই। পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরেছেন এই ক্রিকেটার। ফিট হয়ে মাঠে ফেরা ইবাদত এখন অপেক্ষায় আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের। অবশ্য তার খেলা সবশেষ ১৫ ম্যাচে ২১ উইকেট ও ৪-এর নিচে ইকোনমি রেট জানান দেয়Ñ ইবাদত জাতীয় দলের জার্সিতে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য এখনো রাখেন।

তবে জাতীয় দলে কী দ্রুতই দেখা যাবে তাকে? এ প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের ক্রিকেটপাড়ায়। ফের লাল-সবুজের জার্সিটা গায়ে জড়ানোর পথটা যে তার জন্য সহজ হবে না, তার মূল কারণ জাতীয় দলে ইনফর্ম পেসারদের আধিক্য ও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা না হওয়া। এখন জাতীয় দলের রাডারে থাকা তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে নিয়মিত পারফর্ম করছেন নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম সাকিবরা। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থাকা শরিফুল ইসলামও সবশেষ বিপিএল থেকে নিজেকে ফের চেনাচ্ছেন। আর তাই ইবাদতকে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে রাডারে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে।

অন্যদিকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই ইবাদত হোসেনের নাম। অবশ্য ২০২৪ সালের চুক্তিতেও ছিল না তার নাম। তাতেও খানিকটা আন্দাজ করা যাচ্ছে আপাতত জাতীয় দলের রাডারে নেই তার নাম। তবে একেবারে যে তার নাম বাদ গেছে, সেটাও বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, বিসিবির প্রথম শ্রেণির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন ইবাদত হোসেন। মূলত যেসব ক্রিকেটারকে টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জন্য বিবেচনায় রাখা হয়, তাদেরই এখানে চুক্তিবদ্ধ করে বিসিবি।

গতকাল ইবাদতের ব্যাপারে আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় দলের এক নির্বাচক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নির্বাচক জানান, কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য ক্রিকেটারদের গত দুবছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইনজুরির কারণে গত বছর মাঠের বাইরে ছিলেন ইবাদত। সে কারণেই মূলত তাকে আপাতত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখা হয়নি। পাশাপাশি স্পষ্ট করেন গত দুবছরের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে জাতীয় দলে খেলবেন- এমন ক্রিকেটারদেরই বিবেচনায় রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য। তবে এমন সিদ্ধান্তে ইবাদতের জন্য জাতীয় দলের দরজা যে বন্ধ হয়েছে, সেটা নয় বলেও স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। পেছনে ফেলতে হবে বর্তমান পেস ইউনিটের ক্রিকেটারদের। এই কঠিন লড়াইয়ে জিতলে যে কোনো মুহূর্তে ইবাদতের জন্য সুযোগ মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ইবাদত ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ার সময় ছিলেন দারুণ ছন্দে। ২০২৩ সালে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৪.৬০ ইকোনমিতে ১০ ম্যাচে ২১ উইকেট নেন তিনি। এ পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট কতটা ভয়ংকর ছিলেন তিনি। ছিলেন দলের অটো চয়েস বোলার। ইনজুরি থেকে ফিরে এবার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ইবাদত। তাকে ফিরতে হবে অন্যদের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন