লঙ্কার আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

লঙ্কার আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। শুধু সিরিজ জয় নয়, আধিপত্য দেখিয়ে শেষ দুই ম্যাচে জয়মাল্য গলায় পরে বাংলাদেশ। এমন দারুণ জয় বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যোগ করেছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। সে আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে লিটন দাসের দল। এ ম্যাচের আগে অধিনায়কের কণ্ঠে শোনা গেছে আত্মবিশ্বাসের সুর।

বিজ্ঞাপন


ডাম্বুলা-কলম্বোতে জয়ের পর বাংলাদেশকে এবার নামতে হবে মিরপুরে। তেমন স্পোর্টিং উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা একদম শূন্যের কোঠায় বলা যায়। চিরায়িতভাবে মিরপুরের উইকেটে থাকে বাড়তি স্পিন দাপট। ব্যাপারটা খুব ভালোভাবেই জানা আছে দুই দলের অধিনায়কের। বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস অনুশীলনে এসে সবার আগে ছুটে যান উইকেটের দিকে। কথা বলেন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে। বোঝার চেষ্টা করেন উইকেট। শুধু অধিনায়ক নন, দুপুরে মিরপুরের উইকেট নিয়ে গামিনির সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির দুই পরিচালক মাহবুব আনাম ও নাজমুল আবেদিন ফাহিম। তাতে খানিকটা স্পষ্ট দলের চাহিদামতো উইকেট তৈরিতে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছেন মাঠকর্মীরা।


উইকেট দেখে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘উইকেট ভালোই দেখলাম। (মজা করলাম নাকি?) আমার কাছে মনে হয় ভালো উইকেট হবে। ব্যাটিং–বোলিং দুই সাইডেই থাকবে।’ অন্যদিকে উইকেট দেখার সুযোগ না পাওয়া পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান অঘার ভরসা বিপিএলে খেলা তার স্বদেশি ক্রিকেটাররা। কারণ দলটির স্কোয়াডে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের ৯ জনেরই যে আছে বিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা! সালমান জানান, বিপিএলে খেলা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে সাজানো হচ্ছে পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনায় যে ফাঁকফোকর না রাখার চেষ্টা আছে, সেটা স্পষ্ট তার আরেক কথায়। তিনি বাংলাদেশকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার পক্ষে নন।


পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র তিন ম্যাচে। এশিয়ান গেমসের এক ম্যাচ বাদ দিলে সে পরিসংখ্যান দাঁড়ায় গিয়ে ২১ ম্যাচে দুই জয়। সবশেষ ২০১৬ সালে মিরপুরে পাকিস্তানকে হারান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে ২০১৫ সালে আসে প্রথম জয়। দীর্ঘ ৯ বছরের জয়খরায় থাকা বাংলাদেশকে তা-ও কোনোভাবে খাটো করে দেখার পক্ষে নন সালমান অঘা। অন্যদিকে লিটন অবশ্য অতীত পরিসংখ্যান না ভেবে বর্তমান নিয়ে থাকতে চান। তার ভাষ্যমতে, নির্দিষ্ট দিনে যে দল ভালো খেলবে, তারাই পাবেন জয়। এ নীতিতে এগোতে চাওয়া লিটন নিজের পরিকল্পনা নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি।


তবে প্রস্তুতি দেখে খানিকটা আন্দাজ করা যাচ্ছে ওপেনিং স্লটে আসতে পারে এক পরিবর্তন। শ্রীলঙ্কায় শেষ দুই ম্যাচে কোনো রান না করা ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে সাইড বেঞ্চে বসাতে পারে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় মেহেদি হাসান মিরাজকে আরো একবার একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। পেসার তিনজন নাকি দুইজন থাকবেন একাদশে, এ নিয়েও আছে খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। কারণ গত বছরের অক্টোবরের পর এই প্রথম মিরপুরে হচ্ছে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর সবধরনের ক্রিকেটের কথা যদি বলা হয়, তাহলে প্রায় দেড় মাস পর মিরপুরে ফিরছে ক্রিকেট ম্যাচ। ফলে পাকিস্তান সিরিজে খানিকটা ‘তাজা’ উইকেট পাওয়া যাবে। সে ভাবনা থেকেও বাংলাদেশ একাদশে থাকতে পারে তিন পেসার।


শেষ পর্যন্ত একাদশ কেমন হয়, সেটা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে টস শুরুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত। তবে লঙ্কা বধের আত্মবিশ্বাস যে কাজে লাগবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে আত্মবিশ্বাসে কতটুকু এগোতে পারেÑসেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন