২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে সামনে রেখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু শিরোপা নয়, ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বুট’ও। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে এবার রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ একঝাঁক তারকা ফুটবলার।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। তবে এবার সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে তিনজনের সামনে—কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও জেমস রদ্রিগেজের। যদিও বাস্তবিক অর্থে এমবাপ্পে ও কেইনকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ২০১৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়েও ১১২ ম্যাচে ৭৮ গোল রয়েছে তার নামের পাশে। ইংল্যান্ড যদি টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে পারে, তাহলে আবারও গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে কেইনের।
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড এবারও অন্যতম ফেভারিট। জাতীয় দলের হয়ে ৯৬ ম্যাচে ৫৬ গোল করা এমবাপ্পে বিশ্বকাপে আর পাঁচ গোল করতে পারলে মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে যাবেন।
নরওয়ের আর্লিং হালান্ড প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করা এই স্ট্রাইকারের গোল করার সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে তার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে নরওয়ে কতদূর যেতে পারে তার ওপর।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে সাত গোল করেও গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮ ম্যাচে ১১৬ গোল করা এই কিংবদন্তি আবারও জাদু দেখাতে মুখিয়ে আছেন।
ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালও গোল্ডেন বুটের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় রয়েছেন।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে অবশ্য অনেকেই ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখছেন। জাতীয় দলের হয়ে ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
এ ছাড়া সুইডেনের ভিক্টর জিওকারেস, জার্মানির কাই হাভার্টজ, সেনেগালের ইসমাইলা সার, কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ এবং নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপোকেও সম্ভাব্য চমক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত কার পায়ে সবচেয়ে বেশি গোল আসে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। গোল্ডেন বুটের এই লড়াই বিশ্বকাপের শিরোপা যুদ্ধের মতোই জমজমাট হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

