ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ‘অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার’ ট্রফির চতুর্থ টেস্টে দেখা গেছে রানবন্যা। ৫ সেঞ্চুরিতে ১৪৫২ রানের ম্যাচে আলো ছড়িয়েছে রেকর্ড আর মাইলফলক। আমার দেশ-এর পাঠকদের জন্য সংখ্যায়-সংখ্যায় সেসব রেকর্ড তুলে ধরা হলো।
২
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম হেড কোচ হওয়ার পর এ নিয়ে দুটি টেস্টে ড্র করল ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তির অধীনে ৪০টি টেস্ট ম্যাচে খেলে দুটি ড্র দেখল ইংলিশরা। ভারতের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ড্রয়ের আগে ২০২৩ সালে একই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ড্র করে ইংল্যান্ড। তার কোচিংয়ে ইংল্যান্ড জিতেছে ২৫টি টেস্ট; হেরেছে ১৩টিতে।
৭
এক সিরিজে চার ম্যাচের ৮ ইনিংসের মধ্যে এ নিয়ে ৭ ইনিংসে ৩৫০ বা ততোধিক রান করল ভারত। এর আগে এক সিরিজে সর্বোচ্চ ছয় ইনিংসে এই কীর্তি ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এই রেকর্ড তাদের আছে তিনটি। ১৯২০-২১, ১৯৪৮ এবং ১৯৮৯ সালে তিন সিরিজের প্রতিটিতে ছয়বার ইনিংসে ৩৫০ বা ততোধিক রান তুলেছে অজিরা।
০
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এখন পর্যন্ত কোনো দল আগে ফিল্ডিং নিয়ে ম্যাচ জিততে পারেনি। এই মাঠে আগে ফিল্ডিং করা দল ১২ ম্যাচের মধ্যে হেরেছে তিনটি, ড্র করেছে ৯টি। এই ভেন্যু ভারতের জন্যও অপয়া। ১০ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি ভারত।
৪
এ সিরিজে এখন পর্যন্ত চারটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন শুভমান গিল। এক সিরিজে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এ তালিকায় নাম আছে সুনীল গাভাস্কার (১৯৭১ ও ১৯৭৮-৭৯ সাল, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও বিরাট কোহলির (২০১৪-১৫ সালে, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া)। গিলের চার সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের মাটিতে এক সিরিজে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৩০ সালে এক সিরিজে চার সেঞ্চুরি করেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।
১৮৮
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে দুই উইকেট পড়ার পর তৃতীয় উইকেটে ১৮৮ রানের জুটি গড়েন গিল ও লোকেশ রাহুল, যা এ উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শূন্য রানে ভারতের দুই উইকেট যাওয়ার পর মহিন্দর অমরনাথ ও গুন্দাপা বিশ্বনাথের গড়া ১০৭ রানের জুটিই ছিল সর্বোচ্চ। গিল ও রাহুল এই জুটিতে বল খেলেন ৪১৭টি, যা ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৯৮ সালের পর বল খেলার দিক দিয়ে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ জুটি।
৯
ইংল্যান্ডের মাটিতে ৬ কিংবা এর নিচের পজিশনে ব্যাট করতে নেমে মোট ৯টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন রবীন্দ্র জাদেজা, যা দেশটিতে যৌথভাবে সফরকারী দলের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। এই রেকর্ডে জাদেজা বসেছেন স্যার গ্যারি সোবার্সের পাশে।
৫১১
সিরিজে এখন পর্যন্ত ৫১১ রান করেছেন কে এল রাহুল। তাতে এক সিরিজে ২০০৩ সালের পর ৫০০ বা ততোধিক রান করা দ্বিতীয় সফরকারী ওপেনার হলেন তিনি। তার আগে ২০০৩ সালে ৭১৪ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ। ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এ তালিকায় রাহুলের ওপরে আছেন কেবল সুনীল গাভাস্কার (৫৪২ রান)।
৪
এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রথম ইনিংসে ৩০০ বা ততোধিক রান করেও টেস্ট ড্রয়ের স্বাদ পেল ভারত। আগের তিনটি ছিল ৩৬৮ (১৯৩৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড), ৩৩৪ (২০০৯, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা) এবং ৩১৪ (২০০৯, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড)।
৩
ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করেছেন শুভমান গিল, রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর। তাতে এই প্রথম কোনো টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে একসঙ্গে তিন ভারতীয় ক্রিকেটারের সেঞ্চুরি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
৫
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এ নিয়ে ৫ সেশনে ২০ বা ততোধিক ওভার ব্যাট করেও কোনো উইকেট হারায়নি ভারত। ২০১৪ সালের পর এই ঘটনা প্রথম। আগেরটি ছিল পাকিস্তানের। ২০২২ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ সেশনে ২০ ওভারের বেশি ব্যাটিং করেও কোনো উইকেট হারাতে হয়নি পাকিস্তানকে।
১২
এ সিরিজের চার ম্যাচে ১২ ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করেছেন। এর আগে এমন ঘটনা সবশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৫৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজে। চলতি সিরিজে ১২ ক্রিকেটার সব মিলিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন ১৮টি, যা টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

