টুর্নামেন্টের আগের দিন জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় প্রবেশ করে বুঝাই যায়নি যে, এখানে ২৪ ঘণ্টা পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে যাচ্ছে। অতীতের আসর ঘিরে যে ধরনের ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল ঢাকায়, এবার সেটি অনেকাংশেই অনুপস্থিত। সাফকে ঘিরে রাজধানীতে নেই তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা। স্টেডিয়ামে এলাকায়ও নেই ফুটবল উৎসবের সাজসজ্জা। চারদিকে সেরকম উত্তাপ-উত্তেজনাও নেই। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা কিংবা সাংগঠনিক দুর্বলতা বিষয়টিগুলো স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ মানতে চান না সাফের আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সাফের বর্তমান সভাপতি হলেন বাফুফের সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। দুই ফেডারেশনের মধ্যে সুসম্পর্কই আছে বলে জানালেন তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, বাফুফে ও সাফের মধ্যে যোগাযোগের কোনো রকম ঘাটতি নেই।
এলোমোলো আয়োজনের মধ্যেই নিরুত্তাপ আবহে আজ শুরু হচ্ছে সাফের ১৫তম আসর। আগের ১৪টি আসরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯টি আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নও তারা। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছে ভারতীয়রা। এছাড়া সাফে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ আর একবার করে জিতেছে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। সাফ ছেড়ে মধ্য এশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় টুর্নামেন্টে নেই আফগানরা। এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ খেলছে। এই ছয়টি দলের মধ্যে সব দিক বিবেচনায় বাংলাদেশই ফেভারিট। ২০০৩ সালে একবারই সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। আরেকবার তাদের সামনে আরেকবার শিরোপা জয়ের হাতছানি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শিরোপা জয়ের অভিন্ন লক্ষ্যের কথা জানালেন বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে লড়াই করতে পারব এবং লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’ সাফের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফিফা আয়োজিত আসিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছে ডুলির দল। তবে আগের ম্যাচগুলোর ভুল শুধরেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সাফের আগে কোনো প্রস্তুত ম্যাচ খেলতে না পারলেও দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বলে মনে করেন ডুলি।
শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশের জন্য পথটা সহজ হবে না। সেটি জানেন কোচ ডুলিও। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দলের বিপক্ষেই আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে চাই।’ ঘরের মাঠ আর পরিচিত দর্শকদের সামনে খেলবে বাংলাদেশ। এই হোম অ্যাডভান্টেজ বাংলাদেশকে বাড়তি প্রেরণা উৎস হবে। তবে দর্শক প্রত্যাশার চাপ যে থাকবে সেটি অস্বীকার করা যাবে না। তবে সেই চাপকে জয় করতে চান ফুটবলাররা। সংবাদ সম্মেলনে নিয়মিত মুখ জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে অধিনায়ক হিসেবে হাজির হলেন অধিনায়ক তপু বর্মণ। কোচের চাওয়াতেই তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তপু জানালেন, চাপ থাকলেই ভালো খেলা যায়। ম্যাচ জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তারা।
টুর্নামেন্টে আজ বাংলাদেশের প্রথম পরীক্ষা ভুটান ম্যাচ। সাফের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রাত আটটায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। একই দিন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান-ভারত মাঠে নামবে। দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে বেলা সাড়ে তিনটায়। আপাতত ভুটান ম্যাচের দিকেই ফোকাস দিচ্ছে বাংলাদেশ। তপু বলেন, এই ম্যাচে সবাইকে জয় উপহার দিতে চান তারা। যদিও ম্যাচটিতে দলের সবচেয়ে বড় নাম হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ক্লাবের ব্যস্ততায় এখনো জাতীয় দলে যোগ দিতে পারেননি এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। তপু বলেন, ‘হামজাকে অনেক মিস করব। তার মতো নেতৃত্ব আমাদের দলে খুবই প্রয়োজন। সে যেভাবে আমাদের গাইড করে, সেটা বিশেষ কিছু। তবে আমরা আগে থেকেই জানি, ক্লাব সূচির জন্য সে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারবে না। তার জন্য পথটা সহজ করাই হবে আমাদের কাজ। ভুটানের বিপক্ষে আমরা জিততে চাই।’
বাংলাদেশের জন্য ভুটান সব সময় সহজ প্রতিপক্ষ। এ পর্যন্ত ভুটানের বিপক্ষে ১৭টি ম্যাচ খেলে ১৩টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া দুটি ড্র ও বাকি দুটি ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছে। অতীত রেকর্ড পক্ষে থাকলেও যদিও বর্তমান দলটি বাংলাদেশকে বেশ চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি জিতে সাফের অভিযোন শুরু করতে চায় ভুটান। দলটির অধিনায়ক চেঞ্চো গেইলশেন জানান, সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে প্রথম ম্যাচটি জয়ের লক্ষ্য তাদের। তারাও সাফ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। সাফের সবচেয়ে বড় তারকা হামজা প্রথম ম্যাচে না খেলায় তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ হারাচ্ছেন বলে মনে করেন চেঞ্চো। অন্যদিকে ভুটান কোচ গ্যারি মাইকেল ফিলিপস বলেছেন, আত্মবিশ্বাস নিয়েই সাফে খেলতে এসেছে তার দল।
এদিকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বাড়তি নজর থাকবে সবার। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরীতার কারণে ম্যাচটি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে দুদলের কেউই কাউকে ছাড় দেবে না। তবে ফুটবল মাঠে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কই বজায় থাকবে বলে জানান ভারত কোচ নওশাদ মুসা। দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেললেও সাফের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে ভারত। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চায় তারা। অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে বিশেষ ম্যাচ হিসেবেই খেলবে পাকিস্তান। দলটির অধিনায়ক আলমগীর গাজী বলেন, ‘তাদের (ভারতের) দ্বিতীয় দলটিও ভালো। আমরাও দলের অর্ধেক খেলোয়াড়কে পাচ্ছি না। তবে এটি কোনো অজুহাত নয়। আমরা নিজের সেরা ফুটবল খেলব এবং ভারত ম্যাচে লড়াই করব।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

