জোড়া গোলে শেষটা রাঙালেন মেসি

জোড়া গোলে শেষটা রাঙালেন মেসি

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ, বিষাদ ভায়োলিনের করুণ সুর ছড়িয়ে পড়েছে স্তাদিও মনুমেন্তালের সমুদ্রসম গ্যালারী জুড়ে। বেদনার নীল রং লুকিয়ে লিওনেল মেসি হয়ে উঠলেন এক আকাশ আনন্দের খোরাক। গোল করলেন, করালেন, জয়ের আনন্দের উদ্বেলিত ঢেউ ছড়িয়ে দিলেন ভক্ত-সমর্থকদের হৃদয়ে। ক্ষুদে জাদুকরের জোড়া গোলে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারালো আর্জেন্টিনা। অন্য গোলটি করে সতীর্থের বিদায়ী আনন্দের উপলক্ষ্য রাঙালেন লাউতারো মার্টিনেজ।

২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেট অনেক আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। এই ম্যাচ আর্জেন্টাইনদের কাছে তেমন গুরুত্ব ছিল না। অথচ মেসির এক ঘোষণাতেই এটা হয়ে উঠল মহাগুরুত্বপূর্ণ! বিশ্বকাপ জয়ী মহানায়ক যখন জানালেন, এটাই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে তার শেষ ম্যাচ।

এমন ম্যাচে মেসির সতীর্থরাও জেগে ওঠলেন প্রবল আত্মবিশ্বাসে। দেশের মাটিতে দলের সেরা তারকার শেষটা উজ্জ্বল করতে তার সতীর্থরাও নিজেদের মেলে ধরলেন। ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্জেন্টিনা। যেখানে ভেনেজুয়েলা নিতে পারে মাত্র পাঁচটি শট, এর কোনোটিই ছিল না লক্ষ্যে।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের দারুণ শট রুখে দেন রাফায়েল রোমো। ২২তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কোনাকুনি শট পা দিয়ে আটকানোর পর, মেসিকে হতাশ করেন রোমো।

আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৪০তম মিনিটে। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষ পজেশন হারালে বল ধরে আক্রমণ শাণায় আর্জেন্টিনা। সতীর্থের লম্বা উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সের বাইরে আলভারেজ এক পায়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডজে ফাঁকি দিয়ে বল বাড়ান মেসির দিকে। প্রথম ছোঁয়ায় বল ধরে বাঁ পায়ের চিপ শটে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

বিরতির পর আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে মুহুর্মুহু আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৭৪তম মিনিটে আলভারেজের বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে গোলের দেখা পেয়ে যায় মার্টিনেজ। মেসির ফ্রি-কিকে গঞ্জালেজের কাটব্যাকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড মার্তিনেজ।

চার মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আলমাদার পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে ফাঁকায় পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে পাঠান ইন্টার মায়ামি তারকা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৪ ম্যাচে মেসির গোল হলো ১১৪টি। এর মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে হলো ৩৬টি। সেই সঙ্গে ৬১টি অ্যাসিস্টও করেছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

এই গোলের পরই গ্যালারিতে শুরু হয়ে যায় একরকম মেসি নামের উৎসব। কিছু সমর্থক গলা ফাটিয়ে গান গাইতে শুরু করেন, অন্যরা তাদের সঙ্গে তাল মেলালেন। শেষের বাঁশি বাজতেই শুরু হয় আতশবাজি। তার মাঝেই সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে দর্শকদের কাছে যান মেসি, হাত উঁচিয়ে জবাব দেন তাদের ভালোবাসার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন