কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে উইম্বলডনের প্রথম শিরোপা জিতেছেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। উইম্বলডনের ২০২৫ সালের আসরে আলকারাজকে ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন ২৩ বছর বয়সি ইতালিয়ান তরুণ। এ কাজটি মোটেও সহজ ছিল সিনারের জন্য। অন্তত তার বিগত সময়ের হিসাব করলে লড়াইয়ের চূড়ান্তটা দেখিয়েই টেনিসের ঐতিহ্যবাহী আসরে নিজেকে প্রমাণ করলেন সিনার।
২০২৪ সালটা সিনারের কেটেছে সাফল্যময়। গেল বছরে একটানা ১৪ ম্যাচ জয়সহ বছরের চারটি গ্ল্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে দুটিই বাগিয়ে নিয়েছেন সিনার। বছরের প্রথম আসর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সঙ্গে জিতেছেন শেষ আসর ইউএস ওপেন। বাকি দুটিতেও খেলেছেন কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল। নতুন বছরেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জেতেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। উইম্বলডন জেতার আগ পর্যন্ত মাঝের তার সময়টা কেটেছে দুর্বিষহ।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার পরপরই নিষেধাজ্ঞা। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছিলেন। বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকার শরীরে নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া যায়। সেই অপরাধের পর ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) সঙ্গে সমঝোতার পর তিন মাসের নিধেধাজ্ঞা মেনে নেন তিনি। সিনারের রক্তে পাওয়া গিয়েছিল অ্যানাবলিক এজেন্ট ক্লোস্টেবল। তখন তিনি দাবি করেন, তার সাপোর্ট টিমের এক সদস্যের মেসেজ ও স্পোর্টস থেরাপির কারণে সেটা নিয়েছিলেন। সিনারের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত।
এরপর ১৩ এপ্রিল কোর্টে ফিরলেও নিজের চেনা ফর্ম খুঁজে পাচ্ছিলেন না। রোম ও ফ্রেঞ্চ ওপেনে আলকারাজের কাছে হারাতে হয় শিরোপা। জার্মানির তেরা রর্টম্যান ওপেনে (হালে ওপেন) বুবলিকের কাছে হেরে যান শেষ ষোলোতে। তিন আসরে পরাজয়ের স্বাদ নিয়েই মুখোমুখি হয়েছিলেন অল ইংল্যান্ড ক্লাবে। পেছনের গ্লানি ঝেড়ে-মুছে হাজির হন তিনি নতুন রূপে। পুরো আসরজুড়ে উড়েছেন। নোভাক জোকোভিচের মতো তারকাকে উড়িয়ে ফাইনালে মাত করেছেন আলকারাজকে। সামনেই ইউএস ওপেন। দেখার বিষয় উড়ন্ত সিনার নিজেকে আর কত উপরে নিয়ে যেতে পারেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

