প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাইলেন মারধরের শিকার ক্রীড়া সংগঠক মাসুম

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার চাইলেন মারধরের শিকার ক্রীড়া সংগঠক মাসুম

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্রীড়া সংগঠক গোলাম সাব্বির মাসুমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি ও নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাসুম। তিনি জানান, গত ৭ অক্টোবর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জাহেদ পারভেজের নিজ অফিস কক্ষে তাকে পিটিয়ে আহত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ৩০ বছর কারাতে ও মার্শাল আর্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাব্বির। বর্তমানে প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তার খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় পর্যায়ের কারাতে প্রতিযোগিতায় একাধিকবার স্বর্ণপদক ও রৌপ্যপদকসহ অনেক পদক অর্জন করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিকবক্সিং প্রতিযোগিতায়ও স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন এই খেলোয়াড়।

ঘটনার ব্যাখ্যায় সাব্বির মাসুম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় শিশু-কিশোর মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতার বরাদ্দপত্রের অনুমোদন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে আমি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখায় যাই। পরিচালক ক্রীড়া জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর অফিসের সামনে কয়েকজন পুরোনো পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে দেখা হলে তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় একপর্যায়ে পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর অফিসকক্ষে ডেকে পাঠান। অফিসকক্ষে যাওয়ার পর দু-একটা কথা বলার পরই সে আমার সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং অকথ্য ভাষায় আমার মা-বাপসহ গালাগালি করেন এবং আমাকে বলে তোদের মার্শাল আর্ট কনফেডারেশন বিলুপ্ত করে তো দিছি, এটা আবার কীসের কনফেডারেশন কেন এই বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশন থাকবে বল? তুই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিস। আমি তাকে বলি বিশ্বাস করেন, আমি কিছু জানি না। এরপর সে নিজে ও তার সঙ্গে থাকা দুজন আমাকে চেপে ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় আমার দুটি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কাগজপত্র ও খেলার সরঞ্জামসহ ব্যাগে রাখা নগদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে অন্য রুমে থাকা আরো দুই-তিনজন লোক ডেকে এনে আমার ওপর কিল-ঘুষি, লাথি ও থাপ্পড়সহ শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে কাঠের স্ট্যান্ড দিয়ে আঘাত করা হলে আমার ডান পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পাই। পাশাপাশি আমাকে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জীবন বাঁচাতে রাজি হই মিথ্যা জবানবন্দি দিতে এবং কৌশলে তাদের কাছ থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এসে আমি নিরাপদ স্থানে যাই। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। সেখানে চিকিৎসক আমার ডান পায়ের এক্স-রে করে ফ্র্যাকচার শনাক্ত করেন এবং পরে পায়ে প্লাস্টার করে দেন। এরপর চিকিৎসার কাগজপত্রসহ রাত আনুমানিক ১২টায় পল্টন মডেল থানায় অভিযোগ করি।’

ক্রীড়া পরিচালক কর্তৃক মারধরের শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন সাব্বির মাসুম। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক বা ক্রীড়া সংগঠককে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই, আমার নিরাপত্তা চাই এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন