‘জাতীয় দলের তারকায় ভরপুর বলেই আবাহনী প্রতিবার শিরোপা জেতে!’- গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমেও শোনা গিয়েছিল এমন কথা। এবার সেই চিত্র বদলেছে। আবাহনীতে জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও পেসার নাহিদ রানা ছাড়া নেই বড় কোনো তারকা। তবে এর প্রভাব নেই তাদের পারফরম্যান্সে। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ডিপিএলের টেবিল টপার দলটি। কোচ হান্নান সরকারের সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের দারুণ মেলবন্ধনে সাফল্য পাচ্ছে ধানমন্ডি পাড়ার দলটি। আবাহনীর মতো চমক দেখাচ্ছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও অগ্রণী ব্যাংক। দলীয় পারফরম্যান্সের যখন এই অবস্থা পারফরমারদের তালিকায় পুরোনোরাই আছেন এগিয়ে।
গত মৌসুমে কোনোমতে সুপার লিগে নাম লিখিয়েছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এবার দলটি অষ্টম রাউন্ড শেষে আছে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে। এককথায় বলা যায়- এবার সুপার লিগ বেশ আগেভাগেই নিশ্চিত করেছে দলটি। তবে সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত অগ্রণী ব্যাংক। প্রমোশন পেয়ে ডিপিএলে ফিরেই ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৫ নম্বরে আছে দলটি। তবে পারফরম্যান্সে খুব একটা চমক দেখাতে পারছে না লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও মোহামেডান। এবারের মৌসুমে জাতীয় দলের বেশির ভাগ তারকাদের ঠিকানা হয়েছে এই দুই দলে। নামের ভারে শক্তিশালী দল দুটি খেলার মাঠে যেন নখদন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে। টেবিলের তিনে থাকা মোহামেডানের পয়েন্ট ১২ ও ছয়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পয়েন্ট ৯।
গত মৌসুমে সুপার লিগ খেলা শাইনপুকুর এবার জয় পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচে। তাদের হয়তো লড়তে হবে অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে। গত মৌসুমে অবনমন এড়ানো রূপগঞ্জ টাইগার্সকে এবারও হয়তো খেলতে হবে রেলিগেশন লিগে। এবারের মৌসুমে রেলিগেশন লিগে শাইনপুকুর ও রূপগঞ্জ টাইগার্সের সঙ্গী হতে পারে পারটেক্স ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ঈদের পর ডিপিএলের লিগ পর্বের বাকি তিন রাউন্ড শেষে নির্ধারিত হবে কারা খেলবে রেলিগেশন লিগে।
গত মৌসুমে মাঠে দারুণ ছন্দে ছিল ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব (তখনকার শেখ জামাল ক্রিকেট ক্লাব)। এবার সেই চমকটা দেখাতে পারছে না দলটি। ৮ ম্যাচে মাত্র ৩ জয়ে টেবিলের ৮ নম্বরে আছে দলটি। এবারের মৌসুমে তাদের জন্য সুপার লিগে খেলার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। ৭ নম্বরে থাকা তারুণ্য নির্ভর গুলশান ক্রিকেট ক্লাব সামনে সুযোগ আছে সুপার লিগে খেলার। এ জন্য তাদের লড়াই করতে হবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, অগ্রণী ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মতো দলগুলোর সঙ্গে।
এ তো গেল দলগত পারফরম্যান্সের হিসাব-নিকাশ। এবার একটু নজর দেওয়া যাক ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত ও পুরোনো পারফরমারই এবারও জ্বলে উঠেছেন ব্যাটে-বলে। গাজী গ্রুপের জার্সিতে মাঠ মাতানো এনামুল হক বিজয় ৮ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৩০ রান করে আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে। দুই নম্বরে থাকা প্রাইম ব্যাংকের নাঈম শেখের ব্যাটে এসেছে ৪৯১ রান। তিনে থাকা ইমরুল কায়েসের রান ৪৩০। চার ও পাঁচে আছেন যথাক্রমে পারভেজ হোসেন ইমন (৪১৩) ও নুরুল হাসান সোহান (৪০১)। শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহকের সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার। ছয়ে থাকা শাইনপুকুরের রায়ান রাফসান রহমানের ব্যাটে এসেছে ৩৮৩ রান। এ ছাড়া মাহফিজুল ইসলাম রবিন-ইফতেখার হোসেন ইফতির মতো তরুণ ক্রিকেটাররা দেখিয়েছেন চমক।
বোলিংয়েও পারফরমার পুরোনোরাই। আবাহনীর স্পিনার রাকিবুল হাসান ১৭ উইকেট নিয়ে আছেন সবার ওপরে। দুই নম্বরে থাকা মোহামেডানের তাইজুল ইসলামের শিকার ১৬ উইকেট। তিনে থাকা প্রাইম ব্যাংকের আরাফাত সানি নিয়েছেন ১৪ উইকেট। বল হাতে ১৪ উইকেট নিয়ে চমক দেখিয়েছেন গুলশানের পেসার আসাদুজ্জামান পায়েল। ১৩ উইকেট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছেন গাজী গ্রুপের আবু হাসিম। এ ছাড়া ফাইফার নিয়ে চমক দেখিয়েছেন তরুণ সামিউন বশির রাতুল, মাহফুজুর রহমান রাব্বি ও আল আমিন হোসেনরা। ব্যাট-বলে চিরচেনা মুখদের এমন পারফরম্যান্সই আভাস দিচ্ছে শেষদিকে শিরোপার লড়াইটা হবে আরো কঠিন।
নাম ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট
আবাহনী ৮ ৭ ১ ১৪
গাজী গ্রুপ ৮ ৬ ২ ১২
মোহামেডান ৮ ৬ ২ ১২
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

