'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে গতির ঝড় তুললেন জাকির হোসেন। স্বর্ণপদক জয় করেছেন খুলনা অঞ্চলের এই খুদে স্প্রিন্টার। ট্র্যাকে তার অবিশ্বাস্য গতি আর আন্তর্জাতিক মানের চমৎকার রানিং স্টাইলের কারণে তাকে ইতোমধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীরা 'বাংলার উসাইন বোল্ট' নামে অভিহিত করতে শুরু করেছেন।
উসাইন বোল্টের মতো প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে ফাইনালে ১১.১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে দ্রুততম বালক স্প্রিন্টার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন জাকির। দৌড় শেষে ট্র্যাকেই সিজদাহ দিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই প্রতিশ্রুতিশীল অ্যাথলেট।
জাকিরের পরিবারে রয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। তার বাবা পেশায় একটি হাসপাতালের একজন নিরাপত্তা প্রহরী। বাবার স্বল্প উপার্জনে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে অ্যাথলেটিকসের মতো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা একেবারেই সহজ ছিল না। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন জাকির।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে জাকির তার এই অর্জনকে বাবার চরণে উৎসর্গ করেছেন। জাকির বলেন,
'প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া সব টাকা ও পুরস্কার আমি আমার আব্বুর হাতে তুলে দেব। আমার কাছে আমার আব্বুই সবকিছু।'
আন্তর্জাতিক দৌড়বিদদের মতো দারুণ দৌড়ের স্টাইলের জন্য নজর কাড়া জাকিরের চোখ এখন অনেক দূরে। সে জানায়, সঠিক পরিচর্যা, উন্নত ট্রেনিং এবং ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভবিষ্যতেও তার এই গতির ধারা বজায় রাখতে চায়। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরাই এখন জাকিরের মূল লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাকিরের দুর্দান্ত দৌড়ের ভিডিও ও সাক্ষাৎকারের কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে এই অ্যাথলেট। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ পেলে জাকির হোসেন ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ট্র্যাকেও দেশের জন্য বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

