পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোয়া চার লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতা আকবর খানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী থানায় দায়ের করা মামলার (নম্বর-৩৯, ২৬ জুলাই ২০২৬) তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত আকবর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা মধ্যপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকাল ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার সিংগা গ্রামে আকবরের শ্বশুর ফারুক বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট চরপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো. শাহিন আলী গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় ছয় চাকার একটি ট্রাকে মাছ নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা মাছের আড়তের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী আনিছুর রহমান (২২)।
পরদিন মাছ বিক্রি শেষে নগদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৮০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী চাঁদ আলীর মোড়ে পৌঁছান তারা। এ সময় কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন।
ওই দুই ব্যক্তি ট্রাকে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে মাছ ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মাছ বিক্রির টাকা থাকা ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে তল্লাশি করা হবে বলে জানান তারা। পরে আনিছুর রহমানকে টাকার ব্যাগসহ মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শাহিন আলী রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কাউকে আনা হয়নি। কিছুক্ষণ পর আনিছুর রহমান অপরিচিত এক ভ্যানচালকের মোবাইল ফোন থেকে শাহিনকে জানান, হারুখালী মাঠসংলগ্ন রেশম বাগান এলাকায় তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তারা দাশুড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের সমন্বয়ে মূল অভিযুক্ত আকবর খানকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া টাকার একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সংঘটিত এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

